খড়িবাড়ি, ২৩ অক্টোবর (হি.স.) : খড়িবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে জাল জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র তৈরি কাণ্ডে গ্রেফতার এক। টানা ১২ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট পুলিশি জেরায় কবুল করল অপরাধ। জন্মমৃত্যু শংসাপত্র জালিয়াতি কাণ্ডে এই প্রথম গ্রেফতার হল চক্রের এক এজেন্ট। ধৃতের নাম নবজিৎ গুহ নিয়োগী। সে নকশালবাড়ি বিডিও অফিসের বিএসকে কর্মী। বাড়ি হাতিঘিসা এলাকায়।
জাল জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র তৈরি কাণ্ড প্রকাশের পর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে খড়িবাড়ি। খড়িবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে মাত্র তিন মাসে ৮৪৪ টি জাল জন্মমৃত্যু শংসাপত্র তৈরি এই খবর সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হতে নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য দফতর। ১৭ অক্টোবর রাতে খড়িবাড়ি ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ শফিউল আলম মল্লিক খড়িবাড়ি থানায় অন্যতম অভিযুক্ত জেলা তৃণমূল নেত্রীর ছেলে অভিযুক্ত পার্থ সাহার নামে অভিযোগ দায়ের করে। বিএমওএইচ অভিযোগের সঙ্গে জুড়ে দেন পার্থর একটি মুচলেখা। তাতে পার্থ লিখেছিল, নকশালবাড়ি বিডিও অফিসের বিএসকে কর্মী নবজিৎ গুহ নিয়োগী তাকে জাল শংসাপত্র প্রতি ১০ হাজার টাকা করে দিয়েছে। মুচলেখায় পার্থ স্বীকার করে, এই নবজিৎ তাকে টাকার লোভে দেখিয়ে ৪৫০টি জাল শংসাপত্র জন্মমৃত্যু তথ্য পোর্টাল থেকে তৈরি করিয়েছে। পার্থর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সে জাল শংসাপত্র তৈরি করে মোট ৪৫লক্ষ টাকা কামিয়েছে। খড়িবাড়ি পুলিশ এখন অন্যতম অভিযুক্ত পার্থ সাহাকে গ্রেফতার করতে পারেনি। তবে পার্থ সাহার মুচলেখাকে নিয়ে তদন্তে নেমে নকশালবাড়ি বিডিও অফিসের কর্মী নবজিৎ গুহ নিয়োগীকে ধরে গতকাল সকাল ১১টা থেকে খড়িবাড়ি থানায় নিয়ে আসা হয়।
নবজিৎকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন নকশালবাড়ির এসডিপিও আশীষ কুমার, সার্কেল ইন্সপেক্টর সৈকত ভদ্র, ওসি অভিজিৎ বিশ্বাস প্রমুখ। দীর্ঘক্ষণ জেরায় নবজিৎ ভেঙে পড়ে। পুলিশ তার কাছ থেকে বেশ কিছু তথ্য পেয়ে জালিয়াতি কাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে রাত পৌনে ১২টা নাগাদ তাকে গ্রেফতার করে। আজ অভিযুক্ত পার্থকে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা করে শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। পুলিশ বিচারকের কাছে অভিযুক্তকে ১০ দিনের পুলিশি রিমান্ডের জন্য আবেদন জানিয়েছে। এদিকে জাল জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র তৈরি কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত খড়িবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালের সেকেন্ড মেডিকেল অফিসার ডাঃ প্রফুল্লিত মিঞ্জের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য দফতর কিংবা পুলিশ এখনও কোনও পদক্ষেপ না করায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি
