কলকাতা, ২৪ নভেম্বর (হি.স.): একটি অবৈধ ৬ তলা বাড়ি ভাঙার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট ৷ শুক্রবার এই নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। এদিনের নির্দেশে বলা হয়েছে, ডিসি পোর্টকে প্রয়োজনীয় পুলিশ নিরাপত্তা দিয়ে বাড়ি ভাঙার কাজ করতে হবে।
একবালপুরের এই অবৈধ নির্মাণ নিয়ে আদালতে মামলা করেছিলেন সাকিল আহমেদ সাগর নামে এক ব্যাক্তি। ওই বহুতলের প্রোমোটার আজিম আখতার। সম্পর্কে তিনি আবার মামলাকারীর ছোট ভাই। একবালপুরের ওয়ার্ড নম্বর ৭৭ এ ডেন্ট মিশন রোডে ওই বেআইনি নির্মাণ হয়েছে বলে অভিযোগ৷ ১৮ নভেম্বরের মধ্যে ওই বেআইনি বহুতল ভাঙার কাজ শেষ করতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট৷ ২৮ নভেম্বর আদালতে এই নিয়ে রিপোর্টও পেশ করতে হবে পুলিশকে৷
২০১৭ সালে প্রথম আলিপুর আদালতে মামলা হয় এই বেআইনি নির্মাণটি নিয়ে। আলিপুর আদালত পুর আইনের ১৪৪ ধারায় ওই বহুতলে নতুন করে আর কোনও নির্মাণ করতে বারন করে। পুলিশ রিপোর্ট দিয়ে জানায় ওই বেআইনি নির্মাণের কাজ বন্ধ করা হয়েছে। অভিযোগ, এর মাঝে মামলাকারীকে প্রাণে মারার হুমকি দেওয়া হয়। এরপর ২০১৭ সালে নভেম্বরে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন মামলাকারী। মামলা হয় বেআইনি নির্মানের অভিযোগে।
২০১৮ সালের জুন মাসে বিচারপতি দেবাংশু বসাক ৬ সপ্তাহের মধ্যে কলকাতা পৌরনিগমকে নির্দেশ দেন বাড়ি ভাঙতে। কিন্তু কলকাতা পৌরনিগমের লোকজন সেখানে গেলেও, বাড়িটি আর ভাঙা হয়নি৷ ২০১৯ সালে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের হয়। পৌরনিগম আদালতকে জানায় বাড়ি ভাঙা হবে। ফলে অবমাননার মামলার প্রয়োজন নেই। ইতিমধ্যে করোনা পরিস্থিতি চলে আসে।
আবার ২০২২ সালে দেবাংশু বসাকের এজলাসে মামলা দায়ের হয়। উনি ফের ওই বহুতল ভাঙার নির্দেশ দেন। এর বিরুদ্ধে প্রমোটার আপিল করেন হাইকোর্টের উচ্চতর বেঞ্চে৷ এরপর বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয় ১৫ দিনের মধ্যে বাড়ি খালি করতে। কিন্তু সেই নির্দশও মানা হয়নি বলে অভিযোগ। পরে মামলা বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে যায়৷ বিচারপতি সিনহা গত বছর ১০ নভেম্বর নির্দেশ দেন পুরো বাড়ি ফাঁকা করে ভেঙে ফেলতে। কিন্তু এক বছরে ও সেই নির্দেশ পালন করা হয়নি।
এদিন শুনানি চলাকালীন মামলাকারী অভিযোগ করেন, আদালতের নির্দেশ কার্যকর না করে, উলটে আরও একটা তলা বাড়ানো হয়েছে ওই বেআইনি বহুতলে। এরপরেই বিচারপতি অবিলম্বে ওই বহুতল ভাঙতে নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, একদিন আগেই হাওড়ার লিলুয়ায় একটি বেআইনি নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ৷ ওই নির্মাণ নিয়ে পুলিশের ভূমিকারও কঠোর সমালোচনা করেছিলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়৷ এবার একই পথে হেঁটে কলকাতার একবালপুরের একটি অবৈধ বহুতল ভাঙার নির্দেশ দিলেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা৷ যত পুলিশ প্রয়োজন তত পুলিশ নিয়ে ওই অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।
হিন্দুস্থান সমাচার/ অশোক
