কলকাতা, ১ অক্টোবর (হি.স.): আমার পূর্বপুরুষরা বিক্রমপুরের তেলিরবাগ গ্রাম থেকে এসেছে। সেই ‘তেলিরবাগ’ নামটা নিয়েই কলকাতায় আমাদের বাড়ির নামকরণ হয়েছে ‘তেলিরবাগ ভবন’। আমরা শিশু বেলা থেকেই দেখেছি ওখানে দুর্গোৎসব হতে।
তেলিরবাগের এই সেই পরিবার যার বংশধর ছিলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, এস আর দাশের মত ব্যক্তিত্বরা। মানে, আমরা তাঁদের উত্তরসূরী।
শুনেছি গ্রামে আমাদের পুজো শুরু ৩০০ বছর আগে। ওই পুজোটাই আমার ঠাকুরদা কলকাতায় তেলিরবাগ ভবনে নিয়ে এসে ১৯৩০ সাল থেকেই পুজোটা করে আসছেন। ছোটবেলায় পুজোর সঙ্গে জড়িত থাকতাম প্রায় সব কিছুর মধ্যেই ঠাকুর আনা কুমোরটুলি থেকে, প্যান্ডেল বানানো, ভোগের বাজার করা সবকিছুই করতাম।
তারপর বয়স হতে এসব থেকে আস্তে আস্তে দূরে চলে যাই, যদিও এখনও ওই পুজোতে আমি থাকি আত্মিকভাবে। ওই পৈত্রিক বাড়িতে আমি আর থাকি না, তবে পুজো বাড়িতে আমি একদিন অন্তত যাই। আমি খুব একটা ধর্মপ্রাণ নই। কিন্তু এই পুজোর ব্যাপারটা আমার কাছে সব সময় আকর্ষণ করে। আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা হয়। একটা কমিউনিটি ফিলিং এর মধ্যে থেকে উঠে আসে। যেটা আজকের দিনে বড় অভাব।
ইতিহাসে যাব না, পুজো কীভাবে শুরু হল কীভাবে বাড়ির জমিদারি পুজোর থেকে বারোয়ারি পুজো হলো, কিন্তু আজকে আমরা দেখতে পাই এই পুজোটার সঙ্গে কমিউনিটির অনেক অংশের মানুষ জড়িত। ব্যবসা-বাণিজ্য, কর্মক্ষেত্র তৈরি করা। এবং তাছাড়া সর্বসাধারণের আনন্দ তো আছেই। এখন তো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে ইউনেস্কো ইন্ট্যানজিবল হেরিটেজ। যদিও এখনকার পাড়ার পুজোগুলোকে রাজনীতিকরণটা আমার খুব একটা পছন্দ নয়।
এখনকার দেবী মূর্তি তৈরি আর কুমোরটুলিতে সীমাবদ্ধ নয়। ভালো ভালো আর্ট কলেজ থেকে পাস করা শিল্পীরা মূর্তি করছে এটা একটা অসাধারণ শৈল্পিক দিক খুলে গেছে । তার সঙ্গে সঙ্গে মণ্ডপগুলোও অসাধারণ হয়েছে। ভালো রিসার্চ করে মণ্ডপগুলোও সাজানো হয় । থিমগুলো আমাদের অতীতের শিকড়, আমাদের ইতিহাস মনে করিয়ে দেয়। পশ্চিমবঙ্গে দুর্গা পূজাকে ঘিরে একটা শৈল্পিক বিপ্লব ঘটে গেছে, যা দেশে আর কোথাও বোধহয় পাওয়া যাবে না।
(বুড়োশিব দাশগুপ্ত – পারিবারিক দিক থেকে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের উত্তরসূরী। বিশিষ্ট সম্পাদক, প্রবীণ সাংবাদিক, বহু বছর পড়িয়েছেন দেশবিদেশের কিছু নামী প্রতিষ্ঠানে। শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও অ্যাকাডেমিক পেপার লেখায় পেয়েছেন বিশেষ স্বীকৃতি। এখন একটি নামী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম আধিকারিক।)
—————
হিন্দুস্থান সমাচার / মৌসুমী সেনগুপ্ত
