পাথারকান্দি (অসম), ২৮ নভেম্বর (হি.স.) : আজ রাজ্যের চা-শ্রমিকদের জন্য এক ঐতিহাসিক দিন। বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশনের চতুর্থ দিন রাজ্যের তিন লক্ষ চা-শ্রমিক পরিবারকে জমির পাট্টা প্রদান করা হবে বলে ঘোষণা করছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা, টিভিতে বিধানসভার সরাসরি সম্প্রচার দেখে অসমের উজান থেকে বরাক উপত্যকার চা-বাগানগুলিতে আনন্দের জোয়ার বইছে। রাজ্যের বাগানে বাগানে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
আজ টেলিভিশনে বিধানসভার কার্যক্রমণিকা সরসরি দেখে উজানের মার্ঘেরিটা, বরাক উপত্যকার ইচাবিল চা বাগানের শ্রমিক এবং সাধারণ জনগণ জমায়েত হয়ে নাচে-গানে, ঢোলক-পাখোয়াজ বাজিয়ে, বাজি-পটকা পুড়িয়ে আনন্দোৎসব উদযাপন করেছেন। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা, শ্রম কল্যাণ, চা উপজাতি ও আদিবাসী কল্যাণ দফতরের মন্ত্রী রূপেশ গোয়ালা সহ সংশ্লিষ্ট এলাকার বিধায়কদের জয়ধ্বনী দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।
আজ শুক্ৰবার অসম বিধানসভা মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা এবং শ্রম কল্যাণ, চা উপজাতি ও আদিবাসী কল্যাণ মন্ত্রী রূপেশ গোয়ালা চা-বাগানের শ্রমিকদের জমির পাট্টা দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। বিধানসভার সরাসরি সম্প্রচার দেখে ঐতিহাসিক এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য শ্রীভূমি জেলার অন্তর্গত ইচাবিল চা বাগানের শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারবর্গ এবং এলাকার সাধারণ নাগরিককুল মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা, এলাকার বিধায়ক তথা মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল, চা উপজাতি ও আদিবাসী কল্যাণ মন্ত্রী রূপেশ গোয়ালার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
এ উপলক্ষ্যে ইচাবিল নাচঘরে এক সভার আয়োজন করা হয়। এতে বাগানের বিভিন্ন লাইন থেকে শয়ে শয়ে পুরুষ-মহিলা হাতে হাতে গেরুয়া পতাকা নিয়ে বিজেপি জিন্দাবাদ, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা, মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালের নামে জয়ধ্বনি দিয়ে সভায় যোগ দেন। সভায় বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে ইচাবিল জিপি সভানেত্রী সবিতা কুর্মি বলেন, স্বাধীনতার দীর্ঘ বছর পর বর্তমান বিজেপি সরকার বাগান-শ্রমিকদের জন্য এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে যাতে বাগানের প্রত্যেক চা শ্রমিক জনগণ তাঁদের জমির পাট্টা লাভ করেন। তাই তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্বশর্মা ও মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানান।
এদিকে স্থানীয় সমাজসেবী তথা জিপি সভানেত্রীর প্রতিনিধি রতন কুর্মি এই সিদ্ধান্তকে যুগান্তকারী বলে আখ্যায়িত করেছেন। সভায় প্রাসঙ্গিত বক্তব্য পেশ করেছেন বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি রাজু কুর্মি, ডিস্ট্রিক্ট টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মধুসূদন লোহার, স্থানীয় বাসিন্দা তথা বিজেপি কর্মী শেখর ভট্টাচাৰ্য ও দুলন চন্দ। তাঁরা বলেন, আজ আমাদের বাগান এলাকার প্রতিটি ঘরে আনন্দোৎসব পালন করা হচ্ছে। মানুষ খুশি জাহির করতে গিয়ে বাজি পটকা ফুটিয়ে উল্লাসে মেতে উঠেছেন।
তাঁরা বলেন, চা শ্রমিকরা দেশের উন্নয়নের জন্য তাঁদের মূল্যবান যোগদান দিয়ে আসলেও তাঁরা যথার্থ মর্যাদা পাননি। কিন্তু আজ বিজেপি সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী এবং গোটা মন্ত্রীমণ্ডল চা শ্রমিকদের পাট্টা প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্ৰহণের মধ্য দিয়ে যোগ্য সম্মান প্রদান করেছে। তাই তাঁরাও মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। সভার শেষে জিপি সভানেত্রী সবিতা কুর্মি উপস্থিত জনগণের মধ্যে লাড্ডু বিতরণ করেন।
এদিকে উজান অসমের মার্ঘেরিটা টি এস্টেটের শ্রমিকরা টপসাইড ফিল্ডে জড়ো হয়ে নাচ-গান এবং পটকা ফাটিয়ে আনন্দ প্রকাশ করে আজকের দিনকে ঐতিহাসিক এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পদক্ষেপ বলে বর্ণনা করেছেন।
অসম চা মজদুর সংঘ-এর মার্ঘেরিটা শাখার সম্পাদক হরিনন্দ গোর বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তটি অসমের চা শিল্পের ২০০ বছরের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত। প্রথমবারের মতো চা বাগানের শ্রমিকদের অবদান আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেয়েছে। এই বিলটি আনার জন্য আমরা মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা এবং মন্ত্রী রূপেশ গোয়ালার গতিশীল নেতৃত্বের কাছে গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। তাঁদের প্রচেষ্টায় দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর চা বাগানের শ্রমিকরা ভূমিপাট্টা পাবেন।’
হিন্দুস্থান সমাচার / মনোজিৎ দাস
