নয়াদিল্লি, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
ভারতীয় সেনা দিবসের দিনে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা বৃহস্পতিবার দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের করিয়াপ্পা প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত NCC রিপাবলিক ডে ক্যাম্প ২০২৬ পরিদর্শন করেন। তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। দেশজুড়ে আসা NCC ক্যাডেটরা শৃঙ্খলাবদ্ধ মার্চ-পাস্ট, ব্রাস ব্যান্ড পরিবেশনা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপস্থাপন করে উপস্থিতদের মুগ্ধ করে।
মুখ্যমন্ত্রী ‘ফ্ল্যাগ এরিয়া’তেও যান, যেখানে ১৭টি NCC ডিরেক্টরেটের ক্যাডেটরা জাতীয় মূল্যবোধ, নাগরিক দায়িত্ব এবং জাতি গঠনের চেতনাকে তুলে ধরতে বিশেষ প্রদর্শনী উপস্থাপন করে। এসব প্রদর্শনী ভারতের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, একতা, শৃঙ্খলা এবং দেশসেবার ভাবনাকে প্রতিফলিত করে।
রেখা গুপ্তা বলেন, বহু দশক ধরে NCC যুব সমাজের মধ্যে শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম, ঐক্য এবং কর্তব্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিভিন্ন রাজ্য ও সংস্কৃতি থেকে উঠে আসা ক্যাডেটরা ভাষাগত পার্থক্য সত্ত্বেও একত্রিত হওয়া – “এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত”-এর প্রকৃত রূপ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মুখ্যমন্ত্রী NCC-র ‘হল অফ ফেম’ পরিদর্শন করে সংস্থার ইতিহাস, প্রশিক্ষণ কাঠামো এবং অর্জন সম্পর্কে জানা-শোনা করেন। তিনি যুবা আপদা মিত্র উদ্যোগ এবং ড্রোন প্রশিক্ষণ সম্পর্কিত প্রদর্শনীগুলিও দেখেন। দেশব্যাপী নানা প্রান্তের ক্যাডেটদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি তাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ, আত্মবিশ্বাসী এবং দেশসেবায় নিবেদিত থাকতে উৎসাহিত করেন।
অনুষ্ঠানে NCC-র মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল বিরেন্দ্র বাটসহ জ্যেষ্ঠ অফিসার এবং বিপুল সংখ্যক ক্যাডেট অংশ নেন।
ক্যাডেটদের উদ্দীপনা, শৃঙ্খলা, একতা ও দেশপ্রেমের প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী এই সফরকে নিজের জীবনের স্মরণীয় অভিজ্ঞতাগুলোর একটি বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, সুনিয়ন্ত্রিত মার্চ-পাস্ট, উজ্জ্বল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং উড়ন্ত তিরঙ্গা এমন একটি আবহ তৈরি করেছে যা জাতির স্পন্দনকে প্রতিফলিত করে।
তিনি আরও বলেন, NCC-র সুসংগঠিত প্রশিক্ষণ তরুণদের শুধু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, নেতৃত্ব, সামাজিক সেবা এবং দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের জন্যও প্রস্তুত করে।
NCC-র মন্ত্র “ঐক্য ও শৃঙ্খলা”—কে তিনি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম, সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। ক্যাডেটদের তিনি দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, তাঁরা আজীবন দেশের সেবায় নিবেদিত থাকবেন।
তিনি বলেন, আজকের NCC ক্যাডেটরাই আগামী দিনের জাতীয় নায়ক, যারা নানা ক্ষেত্রে জাতির অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। NCC প্রশিক্ষণ তাদের মধ্যে দৃঢ় মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা এবং সমাজ ও দেশপ্রতি দায়িত্ববোধ গড়ে তোলে।
দিল্লি সরকার NCC কাঠামো আরও শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ—এ কথা পুনর্ব্যক্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ক্যাডেটদের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণ সুবিধা, উন্নত অবকাঠামো এবং প্রয়োজনীয় সম্পদ প্রদান করা হবে। তিনি জানান, প্রশিক্ষণ ও জমি-সংক্রান্ত সমস্যাগুলোর সমাধানে সরকার সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
“বলিষ্ঠ কাঁধ, শৃঙ্খলাবদ্ধ মন এবং দেশের প্রতি অটল নিষ্ঠা—এগুলোই ‘বিকসিত ভারত’-এর ভিত্তি,”—বলে মুখ্যমন্ত্রী প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে কর্তব্য পথে গর্ব, শৃঙ্খলা এবং দায়িত্ববোধ নিয়ে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এই সফর সরকার যে NCC-কে দেশের জন্য শৃঙ্খলাবদ্ধ, দায়িত্ববান এবং দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরির একটি মূল শক্তি হিসেবে দেখে—তা আবারও স্পষ্ট করে। একই সঙ্গে এটি দেশের ভবিষ্যৎ শক্তি হিসেবে যুব সমাজকে আরও সক্ষম করে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করে।
