নয়াদিল্লি, ১৭ নভেম্বর (হি.স.): এক ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী সোমবার ঘোষণা করলেন যে, ভারতীয় রাষ্ট্রায়ত্ব তেল সংস্থাগুলি ২০২৬-এর জন্য ইউএস গাল্ফ কোস্ট থেকে প্রায় ২.২ এমটিপিএ এলপিজি আমদানি করার এক বছরের চুক্তি সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। এটি ভারতের বার্ষিক এলপিজি আমদানির পরিমাণের প্রায় ১০ শতাংশ এবং ভারতীয় বাজারে মার্কিন এলপিজি চুক্তি এটাই প্রথম। মন্ত্রী এই সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, বিশ্বের বৃহত্তম এবং দ্রুত বর্ধনশীল এলপিজি বাজার এবার থেকে খুলে গেল আমেরিকার জন্য।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, ভারত বিভিন্ন সূত্র থেকে সুলভে এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে এলপিজি-র সরবরাহ নিশ্চিত করতে লাগাতার কাজ করে যাচ্ছিল। তারই অঙ্গ হিসেবে ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেডের আধিকারিকদের একটি দল ২০২৫-এর ২১-২৪ জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর করে এবং সেখানে প্রধান মার্কিন উৎপাদকদের সঙ্গে আলোচনা করে। এলপিজি ক্রয়ের জন্য বেঞ্চমার্ক হিসেবে মাউন্ট বেলভিউ-র ভিত্তিতে আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন হল এই চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে।
হরদীপ সিং পুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে রাষ্ট্রায়ত্ব তেল কোম্পানিগুলি সারা দেশে বাড়ি বাড়ি ন্যূনতম মূল্যে এলপিজি সরবরাহের সংস্থান নিশ্চিত করেছে। গত বছর আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজি-র দাম ৬০%-এর বেশি বৃদ্ধি সত্ত্বেও উজ্জ্বলার সুবিধাপ্রাপকরা ভর্তুকিতে প্রায় ৫০০-৫৫০ টাকায় সিলিন্ডার পেয়ে চলেছেন। যদিও প্রকৃত দাম ১১০০ টাকার বেশি। ভারত সরকার এই অতিরিক্ত বোঝা বহন করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বৃদ্ধির ফলে আমাদের মা ও বোনেরা যাতে কোনও বোঝার সম্মুখীন না হন, সেজন্য ভারত সরকার গত বছর ৪০০০ কোটি টাকারও বেশি খরচ করেছে।
মন্ত্রী বলেছেন, ২০২৬-এ এই নতুন উৎসের ব্যবস্থা ভারতের শক্তি নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি লক্ষ লক্ষ পরিবারে সুলভে স্বচ্ছ রান্নার জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এটি আরও একটি পদক্ষেপ।
এই বিষয়ে জানিয়েছে ভারত সরকারের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি)।
—————
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ
