পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ দখলকে উৎসাহিত করে বাংলার ভবিষ্যতের সাথে আপস করার অভিযোগ
গুয়াহাটি, ১৯ জুলাই (হি.স.) : ‘দিদি, আপনাকে স্মরণ করিয়ে দেই, অসমের জনতা নিজেদের মানুষের বিরুদ্ধে লড়াই করছে না…সীমান্তের ওপার থেকে মুসলিমদের অনিয়ন্ত্রিত অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে…’। এক্স হ্যান্ডলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘অসম বিজেপির ভাষাগত রাজনীতি’র সমালোচনার মাত্ৰ ২৩ মিনিটের মাথায় অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা তাঁর অফিশিয়াল এক্স-এ এভাবেই তীব্র জবাবি প্রতিক্রিয়া পোস্ট করেছেন।
আজ শনিবার দুপুর ১২:৩২ মিনিটে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর এক্স হ্যান্ডলে ‘অসম বিজেপি ভাষাগত রাজনীতি’ করছে বলে অভিযোগ করেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, ‘দেশের দ্বিতীয় সর্বাধিক কথ্য ভাষা বাংলা, অসমেরও দ্বিতীয় সর্বাধিক কথ্য ভাষা বাংলা। সব ভাষা ও ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করতে চাওয়া নাগরিকদের, তাঁদের নিজস্ব মাতৃভাষাকে সমুন্নত রাখার জন্য নির্যাতনের হুমকি প্রদান বৈষম্যমূলক এবং অসাংবিধানিক। অসমে বিজেপির এই বিভাজনমূলক অ্যাজেন্ডা সমস্ত সীমা অতিক্রম করেছে। অসমের মানুষ এর বিরুদ্ধে লড়াই করবে। আমি প্রতিটি নির্ভীক নাগরিকের পাশে আছি যাঁরা তাঁদের ভাষা ও পরিচয়ের মর্যাদা এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য লড়াই করছে।’
মমতার এই পোস্টের কিছুক্ষণ পর মাত্ৰ ২৩ মিনিটের মাথায় বেলা ১২:৫৫ মিনিটে অসমের মুখ্যমন্ত্ৰী ড. শৰ্মা তাঁর তীব্র প্রতিক্রিয়া সংবলিত জবাব দিয়েছেন। জবাবি প্ৰতিক্ৰিয়ায় হিমন্তবিশ্ব শুরু করেছেন, ‘দিদি, আপনাকে স্মরণ করিয়ে দেই, অসমের জনতা নিজেদের মানুষের বিরুদ্ধে লড়াই করছে না…’।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে কেবল ক্ষমতায় থাকার জন্য বাংলার ভবিষ্যৎ এবং জাতীয় অখণ্ডতার সাথে আপস করার অভিযোগ করে ‘অনিয়ন্ত্রিত মুসলিম অনুপ্রবেশ’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ড. শৰ্মা।
অসমের মুখ্যমন্ত্ৰী স্পষ্ট করে বলেন, তাঁর সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে তার লক্ষ্য সীমান্তের ওপার থেকে চলমান অনিয়ন্ত্রিত মুসলিম অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ করা। এই পদক্ষেপকে জনসংখ্যার পরিবর্তন রোধের প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করে ড. শর্মা লিখেছেন, ‘অসমে আমরা আমাদের নিজস্ব নাগরিকদের সঙ্গে লড়াই করছি না। আমরা সীমান্তের ওপার থেকে মুসলিমদের অনিয়ন্ত্রিত অনুপ্রবেশ, যা ইতিমধ্যেই জনসংখ্যার একটি উদ্বেগজনক পরিবর্তনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং তা-ই প্রতিরোধ করছি। বেশ কয়েকটি জেলায় (অসমের) হিন্দুরা এখন তাঁদের নিজস্ব ভূমিতে সংখ্যালঘু হওয়ার পথে।’
মুখ্যমন্ত্ৰী ড. শর্মা আরও বলেন, অনুপ্রবেশ একটি প্রকৃত উদ্বেগ, কোনও ‘রাজনৈতিক ন্যারেটিভ নয়’। ‘এমন-কি, ভারতের সুপ্রিম কোর্টও এ ধরনের অনুপ্রবেশকে বহিরাগত আগ্রাসন বলে অভিহিত করেছে। আমরা যখন আমাদের ভূমি, সংস্কৃতি এবং পরিচয় রক্ষার জন্য ওঠে দাঁড়াই, তখন আপনি একে রাজনীতিকরণ করতে পছন্দ করছেন!’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যাকে কটাক্ষ করে বলেন হিমন্তবিশ্ব শৰ্মা।
অসমের বৈচিত্র্যের প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্ৰী ড. শর্মা সহাবস্থানের চেতনা তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা ভাষা বা ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে ভাগ করি না। অসমিয়া, বাংলা, বড়ো, হিন্দি — সব ভাষা এবং সম্প্রদায় এখানে সহাবস্থান করছেন। কিন্তু কোনও সভ্যতা যদি তার সীমানা এবং সাংস্কৃতিক ভিত্তি রক্ষা করতে অস্বীকার করে তবে তা টিকে থাকতে পারে না।’
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অবৈধ দখলকে উৎসাহিত করে ভোটের জন্য একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়কে তুষ্ট করে এবং সীমান্ত-অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে ব্যর্থ বলে ‘বাংলার ভবিষ্যতের সাথে আপস’ করার অভিযোগও করেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব।
তিনি লিখেছেন, ‘দিদি, আমরা যখন অসমের পরিচয় রক্ষার জন্য দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করছি, তখন আপনি বাংলার ভবিষ্যৎ নিয়ে আপস করছেন – একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের অবৈধ দখলকে উৎসাহিত করেছেন, ভোট ব্যাংকের জন্য একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে তুষ্ট করছেন এবং সীমান্ত-অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে জাতীয় অখণ্ডতাকে গ্রাস করাচ্ছেন – এই সবই ক্ষমতায় থাকার জন্য।’
প্ৰতিক্ৰিয়ার উপসংহারে হিমন্তবিশ্ব লিখেছেন, ‘অসম তার ঐতিহ্য, মর্যাদা এবং জনগণকে রক্ষা করতে সাহস এবং সাংবিধানিক স্পষ্টতার সাথে লড়াই চালিয়ে যাবেই।’
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস
