পাটনা, ৯ নভেম্বর (হি. স.) : বিহার বিধানসভায় পাশ হল জাতভিত্তিক সংরক্ষণ বিল । বিলে সরকারি চাকরি এবং শিক্ষাক্ষেত্রে জাতভিত্তিক সংরক্ষণ ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬৫ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়াদের জন্য ১০ শতাংশ পৃথক সংরক্ষণের কথাও বলা হয়েছে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের নেতৃত্বাধীন ‘মহাগঠবন্ধন’ সরকারের বিলটি পেশের পরে সর্বসম্মত ভাবে পাশ হয়ে যায়।
মঙ্গলবার বিহার বিধানসভায় জাতসমীক্ষার দ্বিতীয় রিপোর্ট পেশের পরেই রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত প্রস্তাবে সংরক্ষণ বাড়ানোর বিল পেশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ বিধানসভার অধিবেশনে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে বলেন, ‘‘পিছিয়ে পড়াদের অধিকার দিতে আমাদের সরকার বদ্ধপরিকর।’’
নীতীশ সরকারের বিলে বিহারে অনগ্রসর (ওবিসি) এবং অতি অনগ্রসরদের (ইবিসি) জন্য সংরক্ষণ ২৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪৩ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, তফসিলি জাতির (এসসি) সংরক্ষণ ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারি প্রতিষ্ঠানে তফসিলি জনজাতিভুক্তদের জন্য সাত শতাংশ সংরক্ষণ থাকলেও তা দুই শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় বিহারের জেডিইউ-আরজেডি-কংগ্রেস-বামেদের জোট সরকার।
ওবিসি এবং ইবিসি-দের জন্য ২৭ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকলেও বিহারের জনসংখ্যায় তাঁদের হার বেশি। আসল সংখ্যা প্রকাশ্যে এলে ওবিসি কোটায় আরও সংরক্ষণের দাবি উঠবে বলে আগেই মনে করা হয়েছিল। কার্যক্ষেত্রে তা-ই হয়েছে গত ২ অক্টোবর জাতসমীক্ষার প্রথম রিপোর্ট প্রকাশের পরে। এর ফলে তথাকথিত উচ্চবর্ণ বা জেনারেল ক্যাটেগরি (অসংরক্ষিত)-র উপর আঁচ আসবে বলে জাতসমীক্ষার বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছিলেন। তাঁদের দাবি, এই ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির ফলে বঞ্চিত হবে ‘মেধা’। বস্তুত, ভোট-রাজনীতির ছক মেনেই পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের প্রচারে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ‘জিতনি আবাদি, উতনা হক’ (যে জনগোষ্ঠীর যত সংখ্যা, সংরক্ষণে তার তত অধিকার) স্লোগান দিয়েছেন বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের ধারণা।
হিন্দুস্থান সমাচার / কাকলি
