নয়াদিল্লী, ১২ সেপ্টেম্বর, (হি.স.): সামাজিক মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ছবি যুক্ত করে নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন লিখলেন, “বাংলাদেশটা খুব দ্রুত ইসলামী ভূতের দেশ হয়ে উঠেছে।”
তিনি লিখেছেন, “দেখে মনে হচ্ছে তাবলীগ জামাতের ইজতেমায় যোগ দিতে যাচ্ছে ধর্মান্ধ মহিলারা। আসলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে ছাত্রীরা লাইনে দাঁড়িয়েছে। আমরা যখন ষাট সত্তর আশির দশকে বাংলাদেশের স্কুল কলেজে পড়েছি, এরকম দৃশ্যের ঠাঁই হতো ভূতের গল্পে। বাংলাদেশটা খুব দ্রুত ইসলামী ভূতের দেশ হয়ে উঠেছে।
এই দেশে মেয়েদের মুখ মাথা ঢেকে রাখতে হয়, শরীরে এক কাপড়ের ওপর দুই কাপড়, দুই কাপড়ের ওপর তিন কাপড়, তিন কাপড়ের ওপর চার কাপড় চাপিয়ে প্রমাণ করতে হয় তারা ইসলামে বিশ্বাস করে। ইসলামে তাদের মন দিয়ে নয়, শরীর দিয়ে বিশ্বাস করতে হয়। ইসলাম প্রচন্ড শরীরভিত্তিক ধর্ম, মোদ্দা কথা সেক্সভিত্তিক ধর্ম।
চার বিয়ে, বেহেস্তি হুর, সব সেক্সভিত্তিক রূপকথা। তবে পুরুষের তৃপ্তির জন্য এই রূপকথা রচিত। মেয়েদের তৃপ্তির জন্য নয়। ইসলামে মেয়েরা নিতান্তই সেক্স অবজেক্ট। সেকারণে যৌনাঙ্গ যেমন ঢেকে রাখতে হয়, মেয়েদের সারা শরীর তেমন ঢেকে রাখতে হয়। মেয়েদের সারা শরীরকে এমনকী চুলকেও যৌনাঙ্গ বলে ভাবা হয়, সে কারণে ঢেকে রাখার বিধান রচনা করেছেন নবী পয়গম্বরগণ। কারণ তাঁরা যে সব যৌনাঙ্গের মালিক ছিলেন, সেসব যৌনাঙ্গের দিকে পরপুরুষের নজর লাগুক তা চাইতেন না।
এই বিধানের ভিক্টিম মুসলিম নারীরা। দুঃখ এই, একবিংশ শতাব্দিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো আলোকিত বিদ্যাপীঠে মাথামোটা মেয়েগুলো সপ্তম শতাব্দির অন্ধকার নিয়ে ঢুকেছে। এই মেয়েদের জন্য করুণা হয়, তার চেয়ে বেশি করুণা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য।”
বেলা পৌনে ১টায় তসলিমার এই পোস্ট করার এক ঘন্টা বাদে ২১টি প্রতিক্রিয়া এসেছে।
—————
হিন্দুস্থান সমাচার / অশোক সেনগুপ্ত
