চট্টগ্রাম, ২৫ অক্টোবর, (হি.স.): বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ বাংলাদেশের উপকূলের একাংশে অতি তীব্র আকার ধারণ করে। সাগরেই শক্তি বাড়ায় ঘূর্ণিঝড়টি। বাংলাদেশের উপকূলে এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়ে। তা আছড়ে পড়ে চট্টগ্রামে। এই ঘূর্ণিঝড় হামুন একটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়। এর জেরে বেশি ক্ষতি হয়েছে কক্সবাজারে।
বুধবার ভোর রাতে হামুন চট্টগ্রামে আছড়ে পড়ে। ঘূর্ণিঝড় স্থলভাগে আছড়ে পড়তেই, তার দাপট শুরু হয়। এর জেরে বাংলাদেশে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। এদিন সকাল সাড়ে ৫টা নাগাদ স্থলভাগে হামুন আছড়ে পড়ার পর দাপট দেখিয়ে ৬ ঘণ্টার মধ্যে ক্রমশ শক্তি হারায়। এর পর এটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়। হামুনের প্রভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ঝড়বৃষ্টি চলে।
মাত্র কয়েকঘণ্টা নিজের প্রভাব দেখিয়েছে
ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’। তাতেই বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি এবং মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে কক্সবাজারে তিন জন মারা গিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সেখানের অতিরিক্ত জেলাশাসক বি কে দাশ।
মঙ্গলবার রাতে কক্সবাজারের জিয়ানগর এলাকায় দেওয়াল চাপা পড়ে মৃত্যু হয় আব্দুল খালেক (৩৮) নামের এক ব্যক্তি। গাছ পড়ে বদরখালীতে মৃত্যু হয় আসগর আলি নামে একজনের। মহেশখালীর বড়কুলাল পাড়াতে আর একজনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রবল বাতাসে কক্সবাজারের বিভিন্ন জায়গায় গাছ উপড়ে পড়েছে। তাতে হলিডে মোড়, বাহারছড়া, বাংলাবাজার, হিমছড়ি সড়কে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটিও ভেঙে পড়েছে। ফলে একাধিক এলাকায় বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।
হামুনের প্রভাবে উপকূল এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় সেখানকার বাসিন্দাদের। মঙ্গলবার রাতেই ওই এলাকার অনেক বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যায় প্রশাসন। এই সঙ্গে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে বরিশালসহ বিভিন্ন এলাকায় নৌপরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম বন্দরেও কাজকর্ম বন্ধ করা হয়। ‘হামুন’ বাংলাদেশের উপকূলবর্তী এলাকা অতিক্রম করার পর বরিশাল থেকে সব ধরনের নৌযান চলাচল শুরু হয়েছে বলে জানান বরিশাল নদীবন্দরের আধিকারিক আব্দুর রাজ্জাক।
প্রসঙ্গত, ভারতের আবহাওয়া অফিস আগেই জানিয়েছে, এর অভিমুখ বাংলাদেশের দিকে থাকায় দক্ষিণবঙ্গের কোথাও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আর নেই।
হিন্দুস্থান সমাচার/ অশোক
