ঢাকা, ১৭ জুলাই (হি.স.): ময়মনসিংহের মসূয়ায় উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীদের বাড়ি ভাঙা নিয়ে বিতর্ক যখন তুঙ্গে, তখন বাংলাদেশ সরকারের তরফে দাবি করা হল, যে বাড়ি ভাঙা হয়েছে, সেখানে সত্যজিৎ রায়ের পূর্বপুরুষদের ভিটে ছিল না।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে একটি সুদীর্ঘ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ওই বাড়িটি বর্তমানে সরকারের মালিকানাধীন। বাড়িটির ইতিহাসও তুলে ধরা হয়েছে সেখানে। বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক খবর না-ছড়ানোর আর্জি জানানো হয়েছে বাংলাদেশ সরকারের তরফে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সরকার এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, সবিস্তার তদন্তের পর দেখা গিয়েছে, বাড়িটির সঙ্গে সত্যজিৎ রায়ের পূর্বপুরুষদের কোনও সম্পর্ক নেই। বাড়িটি তৈরি করেছিলেন স্থানীয় জমিদার শশীকান্ত আচার্য চৌধুরী। বাংলাদেশ সরকারের বিবৃতি অনুযায়ী, অধুনা ভাঙার কাজ চলা বাড়িটির পাশেই ছিল ওই জমিদারের বাংলোবাড়ি ‘শশী লজ’। শশীকান্তের জমিদারির কাজকর্ম যাঁরা দেখাশোনা করতেন, তাঁদের জন্য পাশের ওই বাড়িটি তৈরি করা হয়।
জমিদারি প্রথা অবলুপ্ত হওয়ার পর বাড়িটি সরকারের হাতে আসে। পরে বাংলাদেশ সরকার বাড়িটি সে দেশের ‘শিশু অ্যাকাডেমি’-কে ব্যবহার করার অনুমতি দেয়। তার পর থেকে ওই বাড়িটি জেলার শিশু অ্যাকাডেমির দফতর হিসাবে ব্যবহৃত হত বলে দাবি করা হয়েছে বিবৃতিতে।
সরকারের খাতায় অকৃষিযোগ্য বসত জমিটি শিশু অ্যাকাডেমিকে দীর্ঘ মেয়াদে লিজ দেওয়া হয়েছিল। রাতারাতি বিতর্কের কেন্দ্র হয়ে ওঠা বাড়িটির ইতিহাস নিয়ে স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিরা এবং বিদগ্ধ মানুষজনও একই কথা বলেছেন বলে দাবি করা হয়েছে ওই বিবৃতিতে।
বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলায় সত্যজিৎ রায়ের পারিবারিক বাড়ি ভেঙে ফেলার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগপ্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কেন্দ্রকে কথা বলার আর্জি জানান তিনি।
—————
হিন্দুস্থান সমাচার / অশোক সেনগুপ্ত
