সিরাজগঞ্জ (বাংলাদেশ), ৫ জানুয়ারি (হি.স.) : বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় সৎকারে বাধা দেওয়ার অভিযোগে লাশ নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন মৃতের পরিবার সহ স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষজন। এ ঘটনায় উপজেলাজুড়ে উদ্বেগ বিরাজ করছে। মৃতা মিনা বণিক উল্লাপাড়া উপজেলার ঝিকিড়া মহল্লার প্রয়াত গণেশ বণিকের স্ত্রী। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে বলে জানানো হয়েছে।
আজ সোমবার সকাল ১০টায় সিরাজগঞ্জ জেলার রাজশাহী বিভাগের উল্লাপাড়া উপজেলায় ঘটনাটি ঘটেছে। গতকাল রবিবার রাত ৮-টা নাগাদ অসুস্থ মিনা বণিক তাঁর নিজস্ব বাড়িতে মারা গিয়েছেন। প্রয়াত মিনা বণিকের ছেলে সন্তোষ বণিক বলেন, আমার মা গতকাল রাত ৮-টার দিকে মারা যান। আজ (সোমবার) সকাল ৮-টা নাগাদ পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা মায়ের মৃতদেহ সৎকারের জন্য উপজেলার ঘোষগাতি মহাশ্মাশানে নিয়ে গেলে শ্মশানের চাবির জন্য বাবলু ভৌমিকের কাছে যান। কিন্তু বাবলু ভৌমিক চাবি না দিয়ে সৎকারের কাজে বাধা দেন। মৃতদেহ নিয়ে এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন উপজেলা চত্বরে গিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরে বেলা ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী আধিকারিকের হস্তক্ষেপে উল্লাপাড়া শ্মশানে লাশ সৎকার করা হয়।
ঝিকিরা মহল্লার রাজেশ কুমার সাহা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই মহাশ্মশানটি উল্লাপাড়া মহাশ্মশান নামে ছিল। সেখানে আমাদের উপজেলার সব হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে সৎকার করতেন। কিন্তু গত পাঁচ বছর আগে এই মহাশ্মশানটি ঘোষগাতি মহাশ্মশান বলে নাম পরিবর্তন করে একটি কমিটি গঠন করে। সেখানে সরকারি বিভিন্ন অনুদানে টাকা এলেও সেই টাকাগুলো আত্মসাৎ করেন বাবলু ভৌমিক সহ কমিটির সদস্যরা।
তিনি আরও বলেন, উল্লাপাড়া মহাশ্মশান নামকরণ করে উপজেলার সব হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে সৎকার করতে দিতে হবে। ম্যানেজিং কমিটিতে প্রত্যেকটি গ্রাম থেকে একজন করে মানুষ নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করার দাবি জানান তাঁরা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বাবলু ভৌমিক বলেন, ঘোষগাতি মহাশ্মশানের দেখভাল করার জন্য কোনও লোক নেই। ঘোষগাতি শ্মশানের চাবি আমার কাছে থাকে। সকালে মৃত মিনা বণিকের ছেলেরা উল্লাপাড়া পৌর শ্মশানের নাম উল্লেখ করে মাইকিং করেছেন। যেহেতু উল্লাপাড়া পৌর শ্মশান নামে কোনও শ্মশান নেই, সে জন্য তাঁদের চাবি দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, যে শ্মশানের নামে মাইকিং করা হয়েছে, লাশ সেখানে নিয়ে সৎকার করো। এ কথা শুনে মৃত মিনা বণিকের ছেলেরা লাশ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী আধিকারিকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরে ইউএনওর প্রতিনিধি রাকিব ফোন করলে আমি তাঁদেরকে শ্মশানের চাবিটি দিয়ে দেই। পরে ঘোষগাতি মহাশ্মশানে প্রয়াতার সৎকার করা হয়েছে।
উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী আধিকারিক এটিএম আরিফ বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের এক বৃদ্ধা মারা গেছেন। প্রয়াতের পরিবার মহাশ্মশানের চাবি চাইলে বাবলু ভৌমিক চাবি না দিয়ে তাঁদের পাঠিয়ে দেয়। পরে পৌর নির্বাহী আধিকারিককে বলে চাবি দেওয়া হয়েছে। আমার প্রতিনিধিকে দিয়ে লাশ শ্মশানে পাঠানো হলে সেখানে সৎকার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্টের আগে উল্লাপাড়া মহাশ্মশান নামে নামাকরণ হয়েছে। বর্তমানে এখন ঘোষগাতি হিন্দু মহাশ্মশান নামকরণ করা হয়েছে। আর এ নিয়েই হিন্দুদের মধ্যে বিরোধ।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস
