কিশোর সরকার
ঢাকা, ১১ ডিসিম্বর (হি.স): বাংলাদেশে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হলফনামায় দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ভুতুড়ে কান্ড দেখা গেছে। হলফনামায় সংসদ সদস্য প্রার্থীরা সোনাদানা ও সম্পত্তির হিসাব দেখিয়েছেন জলের দরে। আবার কারোবা সম্পদ বেড়েছে বহুগুন।
বাংলাদেশের সিলেট-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও দলটির জেলা সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী হলফনামায় ১০০ ভরি সোনা এক লাখ, ২২ একর চা বাগান ২৯ হাজার টাকা দেখান হয়েছে। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অস্থাবর সম্পদের মধ্যে শফিকুর রহমান চৌধুরী হলফনামায় দেখিয়েছেন নগদ ৯৫ লাখ ৬ হাজার ৯৬ টাকা, ব্যাংকে জমা ৫ লাখ ৭২ হাজার ৩৯ টাকা, ২টি জিপ গাড়ির দাম দেখান যথাক্রমে ১৩ লাখ ও ৭০ লাখ টাকা। স্বর্ণ ১০০ ভরি বিবাহকালীন অর্জন হিসেবে দেখিয়েছেন। ইলেক্ট্রনিক ও আসবাবপত্র ২ লাখ টাকার। একনলা বন্দুকের মূল্য ৫০ হাজার টাকা এবং ওয়ানপয়েন্ট থ্রিটুবোর পিস্তল ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেখিয়েছেন।
এর আগে বিয়ের উপহারের ২২ ভরি স্বর্ণের দাম ২১ হাজার টাকা দেখিয়ে আলোচনায় আসেন বাংলাদেশের কুমিল্লার সংসদ সদস্য বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত।
গত ১৫ বছরে নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের টানা তিনবারের সংসদ সদস্য (এমপি) একরামুল করিম চৌধুরীর সম্পদ না বাড়লেও বার্ষিক আয় বেড়েছে দ্বিগুণ। ব্যাংকে জমা রয়েছে ২ কোটি ১৮ লাখ ৪ হাজার ৬৮৮ টাকা। তবে নেই কোনো নগদ টাকা। তার স্ত্রী নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুন নাহার শিউলির নামেও নেই স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি কিংবা কোনও টাকা নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।
২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় একরামুল করিম চৌধুরী বার্ষিক আয় দেখিয়েছিলেন ৮৮ লাখ ১১ হাজার ৯৩২ টাকা। আর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাখিলকৃত হলফনামায় বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন এক কোটি ৬৭ লাখ ৮ হাজার ৫৮৭ টাকা। অর্থাৎ গেল ১৫ বছরে (তিন সংসদ মেয়াদে) তার আয় বেড়েছে দ্বিগুণ।
বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম পেশায় একজন ব্যবসায়ী। ১০ বছর আগে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১৬ কোটি টাকার কিছু বেশি। এখন তা ১১৮ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। শুধু বন্ডেই তাঁর বিনিয়োগ ৮০ কোটি টাকা। তাজুল ইসলাম কুমিল্লা-৯ (লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ) আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী হন।
সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরীর স্থাবর সম্পদের মধ্যে বাংলাদেশের সিলেটের বিশ্বনাথে কৃষি জমি ৪ দশমিক ৫৮ একর মূল্য ২০ হাজার ৭৫০ টাকা এবং ৪ দশমিক ৫০ একর জমি ৭৭ হাজার টাকা। প্রতি কাঠা জমি এক কোটি টাকা হলেও ঢাকার উত্তরার নিজ নামে ৫ কাঠা প্লট উত্তরা মূল্য দেখিয়েছেন ৩৩ লাখ টাকা। এছাড়াও অকৃষি ৯ একর জমির দাম ১৬ হাজার ৩৭০ টাকা। ১২ দশমিক ২৭ শতক ভূমি ও দোতলা ভবনের মূল্য দেখিয়েছেন ৮৫ হাজার ৬৩৬ টাকা।
একই ভাবে ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরীর পাঁচ বছরে সম্পদ বেড়েছে ২১ কোটি ৪২ লাখ টাকা। আর স্ত্রীর সম্পদ বেড়েছে ৩৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা।
একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে সাবের হোসেন নিজের নামে মোট ২১ কোটি ৪৩ লাখ ৮ হাজার টাকার সম্পদ দেখিয়েছিলেন। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে জমা দেওয়া হলফনামায় তার ৪৮ কোটি ৮৫ লাখ ৯১ হাজার টাকার সম্পদ থাকার তথ্য এসেছে। পাঁচ বছরে তার সম্পদ বেড়েছে দুই দশমিক ২৮ গুণ।
পাঁচ বছর আগে স্ত্রীসহ সাবের হোসেনের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে মোট সম্পদ ছিল ৪০ কোটি ৫২ লাখ ৭৩ হাজার টাকার। বর্তমানে তাদের সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০৩ কোটি ২২ লাখ ৭৭ হাজার টাকায়। পাঁচ বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৬২ কোটি ৭০ লাখ টাকা বা দুই দশমিক ৫৪ শতাংশ।
হিন্দুস্থান সমাচার /
