কিশোর সরকার
ঢাকা, ১৮ জানুয়ারি (হি.স): নৌপথে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পর্যটনের একটা বিরাট সম্ভবনা দেখছেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, পর্যটনের এই সম্ভাবনা পিপল টু পিপল রিলেশনেও বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে। যেটা আমরা দেখলাম ভারতের গঙ্গা বিলাস ক্রুজ সার্ভিস চলাচলের মধ্য দিয়ে। গঙ্গা বিলাস বাংলাদেশের প্রায় একহাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে আসামের ডিব্রুগড়ে গিয়ে পৌঁছে। এরপর গঙ্গা বিলাস বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে কলকাতায় ফিরে গেছে। তাই উভয় দেশের নৌপথের পর্যটনের একটা বিড়াট সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। এছাড়া শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, থাইল্যান্ড, মায়ানমার এই দেশগুলোর মধ্যে নৌপথে পর্যটনের একটা আকর্ষণীয় ব্যাপার আছে। ভারতের বহুভাষী সংবাদ সংস্থা হিন্দুস্থান সমাচারের বাংলাদেশ প্রতিনিধির সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এসব কথা তুলে ধরেন।
গত ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পুনরায় নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। এরপর ১১ জানুয়ারি মন্ত্রীপরিষদ গঠন করে। এতে দ্বিতীয়বারের মতো নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। এমনিতেই পাখির চোখের ন্যায় বাংলাদেশ-ভারতের নৌপথগুলি খুব ভালোভাবে চেনেন তিনি। তাই গঙ্গা বিলাসের যাত্রার মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে পর্যটনের সম্ভাবনা চোখে পড়ছে সর্বাগ্রে।
পদ্মা সেতু হওয়ায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরীর যাত্রীবাহী নৌযানের উপরে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। এই সেতু ব্যবহার করে ভারতের সঙ্গেও সড়ক পথে যোগাযোগ বেড়েছে। এই অবস্থায় বাংলাদেশ-ভারত নৌপথের সম্ভাবনা ও দুদেশের সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করার বিষয় নিয়ে মতামত প্রকাশ করেন নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ।
নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারতবর্ষ আমরা এক সময় একসঙ্গে ছিলাম। বিশেষ করে আমাদের সীমান্তবর্তী যে প্রদেশগুলো আছে সেগুলোর ভাষা ও সংস্কৃতির সাথে খুবই মিল রয়েছে। আজ থেকে চার বছর আগে ঢাকা থেকে কলকাতা মধুমতি জাহাজ দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে একটি ক্রুজশীপ সার্ভিস চালু করা হয়েছিল। এটা মানুষের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। আমাদের যেহেতু ক্রুজশীপ নেই সেই জন্য এইধরণের সার্ভিস চালুকরা সম্ভব হয়নি। তবে আমরা ক্রুজশীপ সংগ্রহ করছি। হয়তো এবছরের মধ্যে পেয়ে যাব। তখন বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে নিয়মিত ক্রুজশীপ চলাচল করা সম্ভব হবে। ভারত সহ বিশ্বের ধনী দেশগুলোর মানুষের মধ্যে সুন্দরবন সহ নদীমাতৃক বাংলাদেশ দেখার আগ্রহ আছে। যেটা আমরা দেখলাম ভারতের গঙ্গা বিলাস ক্রুজশীপ সার্ভিস চলাচলের মধ্য দিয়ে। গঙ্গা বিলাস ভারতের বেনারস থেকে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশের প্রায় এক হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে অসমের ডিব্রুগড় গিয়ে শেষ করেছে। আবার ক্রুজশীপটি বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ফিরে গেছে কলকাতায়। তাই উভয় দেশের নৌপথের পর্যটনের একটা বিরাট সম্ভবনা আছে। এছাড়া শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, থাইল্যান্ড, মায়ানমার এই দেশগুলোর মধ্যে নৌপথে পর্যটনের একটা আকর্ষণীয় ব্যাপার আছে। এ নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বাংলাদেশের স্থল বন্দরগুলো এই নৌপর্যটনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাবে। আমাদের ক্রুজ ভ্যাসেল যখন পাবো, এর মধ্যে ভারতেও তাদের অবকাঠামো তৈরি করছে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সচিব পর্যায়ে সর্বশেষ যে বৈঠক হয়েছে, সেখানেও নৌপর্যটনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সামনে যে সময়টা আসছে সেখানে বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ছে। বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশের মানুষ ঘুরতে চায়। সে ক্ষেত্রে নৌপর্যটন একটা আশাব্যাঞ্জক ভুমিকা রাখবে।
নৌপর্যটন অর্থনীতিতে কি ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে? এমন প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে খালিদ মাহমুদ বলেন, স্থানীয় ভাবে সেন্টমার্টিন ও সুন্দরবনে নৌপর্যটক বেশি। এখানে প্রাইভেট অপারেটররা সার্ভিস দিতে গিয়ে হিমসিম খাচ্ছেন। কেননা মানুষের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা যতো বাড়ছে মানুষের জানার আগ্রহ, দেখার আগ্রহ ও ঘোরার আগ্রহ ততোটাই বাড়ছে। ভবিষ্যতে এ আগ্রহ আরও বাড়বে। তাই নৌপর্যটন নিয়ে যে বাণিজ্যে অপার সম্ভাবনা রয়েছে।
নদীমাতৃক এই বাংলাদেশ নৌ নিয়ে কোন হতাশা আছে কিনা জানতে চাইলে নৌপ্রতিমন্ত্রী বলেন, আগে বাংলাদেশে নৌপথ বলতে ঢাকা-বরিশাল, ঢাকা-পটুয়াখালী, আরিচা-নগরবাড়ী, শিমুলিয়া- কাওরাকান্দি সহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি রুট ছিল। এখন নতুন নতুন রুট চালু হচ্ছে। শুধু ভারত নয় পর্যটন ক্ষেত্রে আমাদের নদীমাতৃক বাংলাদেশ এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে পিপল টু পিপল রিলেশন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
খালিদ মাহমুদ চৌধুরী মনে করেন, পদ্মা সেতুর কারণে নৌসেক্টরের কোন ক্ষতি হয়নি, বরং আগে নৌপথের ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে নৌযান চলাচল করতো এখন সেটা নেই যাত্রীরা একটু আরাম করে চলাচল করতে পারছেন।
হিন্দুস্থান সমাচার /
