ঈদ যাত্রায় জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে ভারত থেকে ৪৫ হাজার টন ডিজেল আমদানি করবে বাংলাদেশ
ঈদ উৎসবের আগে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে এবং ঘাটতি রোধ করতে বাংলাদেশ ভারত থেকে অতিরিক্ত ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঈদ যাত্রায় জ্বালানি চাহিদা বৃদ্ধির আগে সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ ভারত থেকে ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে ৪৫,০০০ টন ডিজেল আমদানি করবে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এপ্রিলের মধ্যে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রায় ৪৫,০০০ টন ডিজেল সরবরাহ করা হবে। ছুটির সময় পরিবহন চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখার লক্ষ্য নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে ৫,০০০ টনের প্রথম চালান ইতিমধ্যেই এসে পৌঁছেছে, বাকি চালানগুলো আগামী সপ্তাহগুলোতে সরবরাহ করা হবে। এই পদক্ষেপ ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তঃসীমান্ত অবকাঠামো প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে।
ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের ভূমিকা
ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে জ্বালানি বাণিজ্য সহজতর করতে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তৎকালীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই পাইপলাইনটি উদ্বোধন করেন। এটি ভারতের আসামের নুনমালিগড় রিফাইনারি থেকে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর ডিপোকে সংযুক্ত করে। পাইপলাইনটির মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩১.৫ কিলোমিটার। এর প্রায় ৫ কিলোমিটার ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থিত, বাকি ১২৬.৫ কিলোমিটার বাংলাদেশে বিস্তৃত। পাইপলাইনটির প্রতি বছর প্রায় ১ মিলিয়ন মেট্রিক টন ডিজেল পরিবহনের ক্ষমতা রয়েছে। পাইপলাইনটি চালু হওয়ার আগে, ভারত থেকে বাংলাদেশে ডিজেল মূলত রেল ওয়াগনের মাধ্যমে পরিবহন করা হতো। এই পদ্ধতিটি ধীরগতির ছিল এবং পরিবহন খরচও বেশি ছিল। পাইপলাইনটি সরাসরি জ্বালানি স্থানান্তর সক্ষম করে এবং লজিস্টিক খরচ কমিয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে দক্ষতা বৃদ্ধি করেছে।
রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং জ্বালানি সহযোগিতার পুনঃসূচনা
অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের সময় বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর গত বছর পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সেই সময় বেশ কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক প্রকল্প পর্যালোচনা করা হয়েছিল, যার ফলে পাইপলাইন কার্যক্রমে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। তবে, সাম্প্রতিক নির্বাচন এবং নতুন সরকার গঠনের পর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা পুনরায় শুরু হয়েছে। কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে ৫,০০০ টনের প্রথম চালান এসে পৌঁছেছে।
ভারত থেকে ডিজেল আমদানি: ঈদ যাত্রায় স্বস্তি, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত
নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে বাংলাদেশের পার্বতীপুর ডিপোতে পাইপলাইনের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ০ টন ডিজেল সরবরাহ করা হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন ভারত থেকে অতিরিক্ত ৪০,০০০ টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাবও পেয়েছে। লেটার অফ ক্রেডিট-এর মতো আর্থিক ব্যবস্থা চূড়ান্ত হলে, অবশিষ্ট চালানগুলো এপ্রিলের মধ্যে বাংলাদেশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ উদ্বেগ
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের কারণে অতিরিক্ত ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাতসহ পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বৈশ্বিক তেল সরবরাহ শৃঙ্খলে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এই ঘটনাগুলো বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশে সম্ভাব্য জ্বালানি ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ফলস্বরূপ, কিছু অঞ্চলে পেট্রোল পাম্পগুলোতে আতঙ্কিত কেনাকাটার খবর পাওয়া গেছে, যেখানে ভোক্তারা জ্বালানি সংগ্রহ করতে ছুটে আসায় দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার সাময়িকভাবে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করে এবং জ্বালানি বিক্রি সীমিত করে। ভারত থেকে ডিজেল আমদানি পুনরায় শুরু হওয়ায়, কর্তৃপক্ষ এখন এই বিধিনিষেধের বেশিরভাগই তুলে নিয়েছে এবং নাগরিকদের আশ্বস্ত করেছে যে দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ রয়েছে।
ঈদের ভ্রমণ মৌসুমে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ
ঈদ বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসব এবং ঐতিহ্যগতভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের নিজ শহর ও গ্রামে ফিরে যাওয়ায় এটি ব্যাপক ভ্রমণের দ্বারা চিহ্নিত হয়। এই সময়ে, পরিবহনের চাহিদা তীব্রভাবে বৃদ্ধি পায় এবং ডিজেলের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। ছুটির মৌসুমে পরিবহন পরিষেবাতে ব্যাঘাত এড়াতে সরকার ভারত থেকে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কর্মকর্তারা বিশ্বাস করেন যে আমদানি করা জ্বালানির আগমন বাজারকে স্থিতিশীল করবে এবং নিশ্চিত করবে যে বাস, ট্রাক এবং অন্যান্য যানবাহন কোনো অসুবিধা ছাড়াই জ্বালানি নিতে পারবে। ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের অব্যাহত কার্যক্রম ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি সহযোগিতা জোরদার করবে এবং আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা উন্নত করবে বলেও আশা করা হচ্ছে।
