নয়াদিল্লি | ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা শালিমার বাগে নতুন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন এবং বিজেপি সরকারের এক বছর পূর্তিতে অর্জিত সাফল্যের রিপোর্ট কার্ড তুলে ধরেন।
দিল্লি সরকারের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা শালিমার বাগের ডিস্ট্রিক্ট পার্কে একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সূচনা করেন। তিনি প্রায় ₹২৫০ কোটি টাকার স্থানীয় উন্নয়ন কাজ এবং তাঁর বিধানসভা এলাকায় হাজার হাজার কোটি টাকার বৃহৎ প্রকল্পের বিবরণ দেন। এই সাফল্যের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদির দিকনির্দেশনা ও সাধারণ মানুষের সমর্থনকে কৃতিত্ব দেন।
শৈশবের স্মৃতি ও রাজনৈতিক সংগ্রাম
মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা তাঁর শৈশবের স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, ত্রিনগর–পীতমপুরার এক সাধারণ মেয়ে কখনও ভাবেনি যে সে দিল্লির সর্বোচ্চ পদে থেকে সেবা করার সুযোগ পাবে। তিনি জানান, নির্বাচনী বাধা সত্ত্বেও জনতার আস্থা সবসময়ই তাঁর অগ্রাধিকার ছিল। ২৭ বছর পর দিল্লিতে বিজেপির ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনকে তিনি জনআকাঙ্ক্ষার বিজয় হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, এটি শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, উন্নয়নের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার।
স্থানীয় ও বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প
শালিমার বাগে প্রায় ₹২৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে বা সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ডিস্ট্রিক্ট পার্কের পুনর্গঠন, নতুন প্রবেশদ্বার, ফোয়ারা, শৌচাগার, ফুটপাত ও অন্যান্য জনসাধারণের সুবিধা। বৃহৎ প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে মুনক ক্যানালের উপর প্রস্তাবিত ₹৫,০০০ কোটি টাকার এলিভেটেড রোড, ক্যানাল সৌন্দর্যায়ন, ছট ঘাট, আধুনিক অডিটোরিয়াম, মডেল স্কুল, নতুন কমিউনিটি হল, আয়ুর্বেদিক হাসপাতালের সম্প্রসারণ, মা–শিশু কেন্দ্রের উন্নয়ন এবং নতুন ক্রীড়া কমপ্লেক্স।
সমগ্র বিধানসভা এলাকায় পরিকাঠামোগত উন্নয়ন
মুখ্যমন্ত্রী জানান, সড়ক, নিকাশি, স্ট্রিট লাইটিং, পার্ক ও বাজারে সার্বিক উন্নয়ন করা হচ্ছে যাতে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত হয়। ফ্লাইওভার, মেট্রো সম্প্রসারণ এবং বৈদ্যুতিক বাসের মাধ্যমে দিল্লিকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তোলার অগ্রগতির কথা তিনি তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা ও জনতার আস্থা
মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রেরণার উৎস হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তাঁর দিকনির্দেশনা ধারাবাহিক জনসেবায় অনুপ্রেরণা জোগায়। এই যাত্রা কেবল সরকারি উদ্যোগের ফল নয়, বরং সাধারণ মানুষের আস্থা ও দলের কর্মীদের নিষ্ঠার প্রতিফলন বলেও তিনি জানান।
ভবিষ্যৎ অঙ্গীকার ও কৃতজ্ঞতা
শেষে মুখ্যমন্ত্রী আবেগঘন ভাষায় বাসিন্দাদের উদ্দেশে বলেন, শালিমার বাগ তাঁর কাছে সবসময় পরিবারের মতোই থাকবে। তিনি নতুন প্রকল্প, চলমান উদ্বোধন এবং দ্রুত উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। উন্নত ও মর্যাদাপূর্ণ দিল্লি গড়তে নাগরিক, কর্মী ও সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, জনসমর্থনই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি।
