
ধর্মনগর (ত্রিপুরা), ১ অক্টোবর (হি.স.) : উত্তর ত্রিপুরার সদর ধর্মনগরের কালিকাপুরে অবস্থিত সাব-জেলে কর্তব্যরত কারারক্ষীদের ওপর হামলা চালিয়ে এক সঙ্গে পলাতক কুখ্যাত ছয় কয়েদির মধ্যে একজনকে ফের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত দক্ষিণ অসমের শ্ৰীভূমি জেলান্তৰ্গত নীলামবাজারের বাসিন্দা আব্দুল ফাত্তা। তার বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত এনডিপিএস আইনে মামলা চলছে।
আব্দুল ফাত্তাকে পাকড়াও করলেও এখনও ধরা যায়নি পলাতক নাজিম উদ্দিন (ডাকাতি, একাধিক চুরি ও সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলার আসামী), রহিম আলি (বিএনএস-এর ৩৩১, ৩০৯ এবং ২০১ ধারায় অভিযুক্ত), সুনীল দেববর্মা (৩৬৪, ৩০২ ধারায় এক হত্যা মামলার অভিযোগে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত), নারায়ণ দত্ত (বাংলাদেশি নাগরিক, পিপি আইনের ধারা ০৩-এর অধীনে অভিযুক্ত) এবং রোশন আলি (বিএনএস-এর ৩৩১ এবং ৩০৯ ধারায় অভিযুক্ত)-কে।
এদিন সকালে জেল সুপার-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট (এসডিএম) দেবযানী চৌধুরী জানিয়েছিলেন, আজ (বুধবার) সকাল ৬:০০টার দিকে সেল থেকে বন্দিদের নৈমিত্তিক কাজকর্ম যেমন শৌচকৰ্ম, প্রাতঃরাশের জন্য বের করার পরপরই জেলব্ৰেকের ঘটনাটি ঘটেছিল। তারা গার্ড গেদু মিয়াঁর ওপর সম্মিলিতভাবে হামলা চালায়। তাদের প্রতিহত করতে কর্তব্যরত আরও জেলকর্মী এগিয়ে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালিয়ে মূল গেট দিয়ে পালিয়ে যায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী সহ ছয় কুখ্যাত অপরাধী।
পলাতক কয়েদিদের ধরতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয় পুলিশ। জেলার সমস্ত থানা-ফাঁড়ি সহ অন্যান্য পুলিশ বাহিনীকে হাই অ্যালার্টে রাখা হয়। পলাতক আসামীরা যাতে শহর ত্যাগ করতে না পারে সেজন্য বিভিন্ন স্থানে তালাশি চৌকি বসানো হয়। ছড়িয়ে দেওয়া হয় পলাতকদের ফটো।
উত্তর ত্রিপুরার পুলিশ সুপার অবিনাশ কুমার রাই-এর নেতৃত্বে পদস্থ পুলিশ অফিসাররা গোটা ঘটনার তদন্ত করছেন। অসম-ত্রিপুরা আন্তঃরাজ্য সীমান্ত এলাকা এবং বাংলাদেশের সাথে আন্তর্জাতিক সীমানার নিকটবর্তী স্থান সহ সমগ্র অঞ্চল জুড়ে ব্যাপক অভিযান চলছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস
