কলকাতা, ৩০ সেপ্টেম্বর (হি.স.):
আমার জন্ম কলকাতায় হলেও, বেড়ে ওঠা বাইরে। দ্বিতীয় শ্রেণী পর্যন্ত বাংলাতেই থেকেছি। পড়তাম শিশু তীর্থ স্কুলে। বাবা সেনাবাহিনীতে চাকরির সুবাদে বাইরে পোস্টেড। তাই, পুজোর ছুটিতে মা ও ভাইকে নিয়ে বর্ধমানের মোহনপুর গ্রামে দাদু দিদার কাছে যেতাম। হাতে থাকতো ‘শুকতারা’-র পুজো সংখ্যা। বয়স তখন পাঁচ।
গ্রামের দুর্গা মন্দির সংলগ্ন আটচালাতে খড়ের কাঠামো তৈরি করা থেকে মায়ের চোখ আঁকা পর্যন্ত শিল্পীর নানান কার্যকলাপের সাক্ষী হওয়া ও মা দুর্গার পরিবার, বিশেষ করে অসুরকে নিয়ে, শিল্পীকে প্রশ্নে-প্রশ্নে জর্জরিত করাটা আমার কাছে ছিল বিশেষ আনন্দের।
গ্রামের মাঠে কাশফুল, বাড়িতে- বাড়িতে শিউলি ফুলের সুগন্ধ, আকাশে পেঁজা তুলোর মত সাদা নরম মেঘ, দিদার তৈরী, নারকেল, খৈ, তিল ও ‘সিরি’র নাডু (এই সিরি হল বেসন দিয়ে তৈরি কাঠি যা ভেঙে গুড় দিয়ে নাড়ু করা হতো। আমি দিদিমাকে বাড়ির কোন ‘সিঁড়ি’ ভেঙে নাড়ু করা হয়েছে, জানতে চেয়ে খুব জ্বালাতন করতাম)….
অনাড়ম্বর এক পূজো, অথচ আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে সীমাহীন আনন্দ ভাগ করে নেওয়াই ছিল আমার কাছে দুর্গাপুজো। পূজোর জামা একটাই হতো। আমার গ্রামের বন্ধুরা কাকলি, কৃষ্ণা (নাকে সিকনি, মাথার চুল উস্ক-খুস্ক, মলিন জামা) আমার আসার খবর পেলেই দৌড়ে চলে আসতো। মা আমার আর ওদের জামা একসাথে কিনতেন। রান্নাবাটি, কিতকিত্, আরো কত গ্রাম্য খেলা…
বিজয়া দশমীর দিনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বড়দের প্রণাম করে লুচি মিষ্টি নিয়ে আসা…এসব আমার পুজোর স্মৃতির সঙ্গী হয়ে আজও বেঁচে আছে। পরে আমরাও বাংলার বাইরে চলে যাই। সেখানকার স্মৃতি আর এক অন্যরকম অনুভুতি !
(উপাচার্য- বাবা সাহেব অম্বেদকর এডুকেশন ইউনিভার্সিটি, সাহিত্য পরিষদের অন্যতম পরামর্শদাতা)
—————
হিন্দুস্থান সমাচার / অশোক সেনগুপ্ত
