চোখের জলে জুবিনের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ পাপন মহন্তের
গুয়াহাটি, ২২ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : ‘জুবিন জুবিনই, আমি কখনও জুবিন হতে পারব না, জুবিনের শূন্য স্থান অপূরণীয়’, গুয়াহাটিতে পদর্পণ করে বলেছেন আরেক অসম-সন্তান সংগীতশিল্পী অঙ্গরাগ পাপন মহন্ত।
রবিবার মধ্যরাতে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে গুয়াহাটি বিমানবন্দরে অবতীর্ণ করে সোজা সরুসজাই স্টেডিয়ামে চলে যান বলিউডের অন্যতম প্ৰখ্যাত কণ্ঠশিল্পী, আরেক কৃতী অসমিয়া অঙ্গরাগ পাপন মহন্ত। অসমের প্রিয় সাংস্কৃতিক দূতকে বিদায় জানাতে বিমানবন্দর থেকে তাঁরা সোজা চলে যান সরুসজাই স্টেডিয়ামে। জমায়েত হাজার হাজার শোকাহত মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বন্ধু তথা ভ্রাতৃসম অসমিয়া সংগীতের নক্ষত্ৰ চিরনিদ্রায় শায়িত জুবিন গাৰ্গের প্রতি চোখের জল ঝরিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেছেন অঙ্গরাগ। সেখানে জুবিনের বিধবা স্ত্রী গরিমা শইকিয়া গার্গের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেছেন আবেগপ্রবণ পাপন মহন্ত।
এদিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে বার্তালাপে বন্ধুর আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্ৰকাশ করেছেন পাপন। তিনি বলেন, ‘জুবিনের সঙ্গে আমার কেবল বন্ধুত্বের নয়, ভাইয়ের সম্পর্ক। আমি কখনও জুবিন হতে পারব না। জুবিন জুবিনই। তাঁর অকালমৃত্যু অসমীয়া সংগীত জগতে এক বিশাল শূন্যতা সৃষ্টি করেছে। তাঁর উত্তরাধিকার হওয়ার ধৃষ্টতা আমার নেই। তাঁর মৃত্যু কেবল ব্যক্তিগত নয়, সমগ্ৰ রাজ্যের জন্য বিশাল ক্ষতি। এই ক্ষতির ব্যাপকতা সমগ্ৰ বিশ্ব দেখছে। তাঁর প্রয়াণে গোটা অসম শোকস্তব্ধ। স্তব্ধ ভারতের সংগীত জগত। তাঁর লক্ষ লক্ষ অনুরাগী ও সাধারণ মানুষের কান্নায় বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। জুবিনের প্ৰতি মানুষ যে ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন করছেন তা অসাধারণ, অভূতপূর্ব। আজকের পৃথিবীতে এই দৃশ্য বিরল। জুবিন গাৰ্গের সঙ্গে কাউকে তুলনা করা যায় না। রাজের সর্বস্তরের মানুষ জুবিন এবং আমাকে অসমের দুই সন্তান বলে মনে করেন।’
পাপনের স্বীকারোক্তি, জটিল সময়ে জুবিনের কাছে থাকতে না পেরে নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে। তবে জুবিনের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে অনিবার্য কারণে সশরীরে গুয়াহাটিতে আসতে না পারলেও, ফোনে গরিমার (জুবিন গার্গের স্ত্রী) সঙ্গে যোগাযোগ ছিল।
অসমের বাইরে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য তিনি যে সমালোচনার মুখোমুখি হচ্ছেন, সেই সমালোচনারও জবাব দিয়েছেন এই গায়ক। স্বীকার করেছেন, তিনি এবং জুবিন ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছিলেন। পাপন বলেন, অসমে তাঁর অনুপস্থিতি, রাজ্যের বাইরে মুম্বাইয়ে বসবাস এবং পরিবেশনা নিয়ে মানুষের ক্ষোভ তিনি বুঝতে পারছেন। বলেন, অসমের মানুষ জুবিনকে সর্বস্ব উৎসর্গকারী ভাই হিসেবে দেখত।
এদিকে, জুবিনের আকস্মিক মৃত্যুর তদন্ত সম্পর্কে জোর দিয়ে পাপন বলেন, এটা কেবল আমার দাবি নয়, সত্য জানতে অসমবাসীর ইচ্ছা।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস
