দুর্গাপুর, ১২ সেপ্টেম্বর (হি. স.): “গুলশন কলোনীতে গুলি তো হবেই। ওখানকার বিধায়ক আর কাউন্সিলরের লড়াই চলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতাকে লন্ডন বানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু লন্ডন নয়, তিনি পশ্চিমবঙ্গকে পাকিস্তান-আফগানিস্তান বানিয়ে দিয়েছেন। যেমন সেখানে গুলি-বোমা চলে, তেমনই আজ বাংলাতেও হচ্ছে।” — শুক্রবার দুর্গাপুরে এনআইটি ক্যাম্পাসে আয়োজিত আত্মনির্ভর ভারত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এভাবেই মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র কটাক্ষ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপি-র প্রাক্তন সভাপতি ডঃ সুকান্ত মজুমদার।তিনি আরও বলেন, “তৃণমূল সরকারের দুর্নীতিতে মানুষ অতিষ্ঠ। ২০২৬ সালে গনতান্ত্রিক উপায়ে বাংলার মানুষ অপারেশন বেঙ্গল করে দেবে।”
রাজ্যজুড়ে বিজেপির নরেন্দ্র কাপ ফুটবল প্রতিযোগিতার উদ্বোধনের পর সুকান্তবাবু পান্ডবেশ্বরে আগমনী যাত্রায় অংশ নেন। সেখানেও তৃণমূলকে আক্রমণ করে বলেন, “মদ বিক্রির রাজস্বের জন্য নিয়ম বদলে মা দুর্গার চক্ষুদান করা হচ্ছে। ভোটের আগে হিন্দুত্বের ছদ্মবেশে লক্ষ্মীর ভান্ডার বাড়ানো হচ্ছে। আসলে এরা ছদ্মবেশী হিন্দু, মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।”
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী মৃত্যুকাণ্ড নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ন্ত্রী। তিনি বলেন, “যাদবপুর রাজ্যের সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির একটি। অথচ বারবার ছাত্র-ছাত্রীর মৃত্যু হচ্ছে। পাশে মদের বোতল মিলছে। এভাবে দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।”
এনআইটির অনুষ্ঠানে পড়ুয়ারা প্রশ্ন তোলে মৌলিক অধিকার ও সংরক্ষণ নিয়ে। উত্তরে সুকান্তবাবু বলেন, “সংরক্ষণ সাংবিধানিক বিষয়। কেউ মাইক নিয়ে চেঁচালেই তাকে গ্রেফতার করবে পুলিশ। আর মৌলিক অধিকার খনন করা হয়েছে—এ প্রশ্ন হয়তো রাজনৈতিকভাবে কাউকে দিয়ে বানানো।”
ব্রাত্য বসু ও কুনাল ঘোষকে কটাক্ষ করে সুকান্তবাবু বলেন, “ব্রাত্যর জীবনের স্বপ্ন ছিল লালবাতির গাড়িতে বসে মদ খাওয়া। ওর কথার উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আর তার পাশে বসা কুনাল ঘোষের ছেলেকে কেন যাদবপুরে ভর্তি করালেন না? কেন পশ্চিমবঙ্গের সরকারি প্রতিষ্ঠানে পাঠালেন না?”
এদিন এনআইটি ক্যাম্পাসে সাফাই অভিযানে যোগ দেন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।
তবে বিজেপি নেতার মন্তব্যে পাল্টা কটাক্ষ করেছেন পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল মুখপাত্র উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “যে পড়ুয়া প্রশ্ন তুলেছিল, সে তো বিজেপি শাসিত রাজ্যের। মানুষই সুকান্ত মজুমদারকে সাংসদ করেছেন। মানুষের কথা না শুনলে ওনারও পদ যাবে।”
—————
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা
