
গুয়াহাটি, ২৬ জুলাই (হি.স.) : আন্তর্জাতিক সীমান্তে ব্যাপক সচেতনতামূলক কাজ এবং জাতীয় সংহতি বৃদ্ধি করছে ‘সীমান্ত চেতনা মঞ্চ পূর্বোত্তর’; ‘সীমান্ত চেতনা মঞ্চ পূর্বোত্তর’-এর দ্বিদিবসীয় বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বলেছেন অসমের রাজ্যপাল লক্ষ্মণপ্ৰসাদ আচাৰ্য।
আজ শনিবার গুয়াহাটির কাহিকুচিতে অবস্থিত ‘স্টেট ইনস্টিটিউট অব পঞ্চায়েত অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট’-এর মিলনায়তনে ‘সীমান্ত চেতনা মঞ্চ পূর্বোত্তর’ (অসম রাজ্য শাখা)-এর দুদিবসীয় বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করে সংগঠনের পদাধিকারীবর্গ, কার্যকর্তা ও প্রতিনিধিগণ, সুশীল সমাজের সমাবেশে বক্তৃতা পেশ করতে গিয়ে রাজ্যপাল লক্ষ্মণপ্রসাদ আচার্য সীমান্তে সচেতনতামূলক প্রচার, জাতীয় সংহতি বৃদ্ধি এবং প্রত্যন্ত ও সংবেদনশীল অঞ্চলের বাসিন্দাদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সংগঠনের প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানান।
অনুষ্ঠানকে ‘সামাজিক সচেতনতা, ঐক্য এবং আমাদের মাতৃভূমির প্রতি গভীর মমতার প্রতীক স্বরূপ’ বলে অভিহিত করে রাজ্যপাল লক্ষ্মণপ্রসাদ আচার্য ‘সীমান্ত চেতনা মঞ্চ পূর্বোত্তর’-কে জাতীয় পরিকাঠামোর সঙ্গে সীমান্ত এলাকার জনসংখ্যাকে সংযুক্ত করার লক্ষ্যে তৃণমূলস্তরে কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেছেন।
সংগঠনের কার্যকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের পরিষেবা দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল উদাহরণ, যা উৎসর্গ, দায়িত্ব এবং কর্তব্যবোধে নিহিত।’ অসমে নিরলসভাবে কাজ করার জন্য এবং মহাপুরুষ শ্রীমন্ত শংকরদেব কর্তৃক সমৃদ্ধ জনগণের জাতীয় চেতনা পুনরুজ্জীবিত করতে সীমান্ত চেতনা মঞ্চ পূর্বোত্তরকে ধন্যবাদ জানান তিনি। অনুষ্ঠানে শ্রীমন্ত শংকরদেব এবং বীর লচিত বড়ফুকনের আদর্শকে অবলম্বন করে একটি প্রগতিশীল ভারত গড়ার অঙ্গীকার নিতে বলেন রাজ্যপাল আচার্য।
তিনি বলেন, ‘আজকের ডিজিটাল যুগে, আমাদের মাটির বাস্তবতার সাথে যোগাযোগ হারানো উচিত নয়।’ রাজ্যপাল জোর দিয়ে বলেন, ‘এটি আমাদের সীমান্ত গ্রামের সচেতন নাগরিক, যাঁরা প্রতিরক্ষার প্রথম সারিতে দাঁড়িয়ে আছেন। তাই-তো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, সীমান্ত গ্রামই শেষ নয়, বরং আমাদের দেশের প্রথম গ্রাম।’
প্ৰদত্ত ভাষণে রাজ্যপাল আচার্য অ্যাকাডেমিক আউটরিচ, যুব সম্পৃক্ততা এবং সম্প্রদায়ের সংহতির মাধ্যমে জাতীয় সেবার পবিত্র দায়িত্ব সমুন্নত রাখার জন্য মঞ্চের প্রশংসা করেছেন।
‘সীমান্ত চেতনা মঞ্চ পূর্বোত্তর’-এর দ্বিদিবসীয় বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্য বহুজনের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছেন ‘নর্থ ইস্টার্ন ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স কর্পোরেশন লিমিটেড’ (নেডফি)-এর চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর পিভিএসএলএন মূর্তি, ‘সীমান্ত চেতনা মঞ্চ পূর্বোত্তর’-এর জাতীয় আহ্বায়ক রাম কুমার, ‘সীমান্ত চেতনা মঞ্চ পূর্বোত্তর’-এর পদাধিকারী ড. প্রতিমা নিয়োগী, বাবলুকুমার রায়, ড. বিনিতা ভগবতী প্রমুখ।
আজকের অনুষ্ঠানে অন্য বিশিষ্টদের সঙ্গে একটি স্মরণিকার উন্মোচন করেছেন রাজ্যপাল লক্ষ্মণপ্রসাদ আচার্য।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস
