কলকাতা, ১৬ জুলাই (হি.স.): ভারতের সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে বিবেচনা করা হয় তাঁকে। ১৭ জুলাই ১৯৪৯ সালে হায়দরাবাদে তেলেঙ্গানায় জন্ম হলেও হাবিবের ফুটবলার জীবনের অনেকটা সময় কেটেছে কলকাতা ময়দানে। তাঁর ভাই মহম্মদ আকবরও কলকাতা ময়দান মাতিয়েছেন। কলকাতা ময়দানে দুই ভাইয়ের একজনকে ডাকা হতো বড়ে মিঞা নামে এবং ভাই পরিচিত ছিলেন ছোটে মিঞা নামে।
১৯৬৬ সালে হায়দরাবাদ থেকে ইস্টবেঙ্গলে আসেন মহম্মদ হাবিব। ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে খেলেন তিনি। তার পরে যোগ দেন মোহনবাগানে। বেশিরভাগ সময় ইস্টবেঙ্গলের হয়েই খেলেছেন তিনি। খেলেছেন মহামেডানের হয়েও। ১৯৮৪ সালে মোহনবাগানের হয়ে খেলার পরেই অবসর নেন হাবিব।
সৈয়দ নইমুদ্দিনের নেতৃত্বে ১৯৭০ সালে ব্যাংকক এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জজয়ী ভারতীয় দলের সদস্য ছিলেন হাবিব। সেই দলের ম্যানেজার ছিলেন পিকে বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯৭৭ সালে কসমস ক্লাবের বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচে, যে ম্যাচে সম্রাট পেলে খেলেছিলেন তিনি সেই ম্যাচে মোহনবাগানের হয়ে খেলে ছিলেন। পেয়েছিলেন সম্রাট পেলের প্রশংসা।
১৯৬৫ থেকে ১৯৭৬-এর মধ্যে হাবিব ভারতের হয়ে বহু আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে মাঠে নেমেছেন। মাঝমাঠে তাঁর দৃষ্টিনন্দন ফুটবল আজও ভারতীয় ফুটবল প্রেমীদের মনের মনিকোঠায় ছুঁয়ে আছে। খেলা ছাড়ার পর কোচিংও করিয়েছেন। ছিলেন টাটা ফুটবল অ্যাকাডেমির ডিরেক্টরও।
লাল-হলুদ শিবিরের শতবার্ষিকী অনুষ্ঠানেও ভারত গৌরব সম্মানে ভূষিত করা হয় তাঁকে।
১৫ আগস্ট ২০২৩ সারা দেশ যখন স্বাধীনতা দিবসের উৎসবে মাতোয়ারা, সেদিন ভারতীয় ফুটবলমহলে নেমে এল শোকের ছায়া। প্রয়াত হয়েছিলেন ভারতীয় ফুটবলের নক্ষত্র ফুটবলার মহম্মদ হাবিব।
—————
হিন্দুস্থান সমাচার / শান্তি রায়চৌধুরি
