গুয়াহাটি, ২২ জুন (হি.স.) : আইসিডিএস-এর সুপারভাইজারের পদ ৫০ শতাংশ সংরক্ষণ, মধ্যাহ্ন ভোজন রাঁধুনিদের বেতন বেড়ে ২,০০০ টাকা, ‘শ্ৰদ্ধাঞ্জলি’ প্রকল্পের অধীনে বহিঃরাজ্যে নিহতদের মৃতদেহ অসমে নিয়ে আসা ইত্যাদি প্ৰস্তাবিত বিভিন্ন প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে অসম মন্ত্রিসভা।
আজ রবিবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ সব তথ্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা বলেন, আজকের ক্যাবিনেট বৈঠকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূৰ্ণ সিদ্ধান্ত গ্ৰহণ করা হয়েছে। তিনি জানান, ‘শ্ৰদ্ধাঞ্জলি’ শীৰ্ষক প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য ক্যাবিনেট। এই প্রকল্পের অধীনে বহিঃরাজ্যে নিহত যুবক-যুবতীর মৃতদেহ অসমে নিয়ে আসা হবে। রাজ্য সরকারের খরচে নিয়ে আসা হবে মৃতদেহ। এর জন্য একটি হেল্পলাইন নম্বর ১১২ চালু করেছে সরকার। এই নম্বরে ডায়াল করলে পাওয়া যাবে সুবিধা।
সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্ৰী আরও জানান, গোয়ালপাড়ার উরপদ বিলকে বনাঞ্চল করা হবে। সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জন্য ৯,০০০ বিঘা ভূমিতে উচ্ছেদ চালানো হয়েছে। এই বিল সম্পর্কে এক মাসের জন্য ওজর-আপত্তি জানাতে পারবেন জনসাধারণ।
এছাড়া গোয়ালপাড়ার হাসিলা বিলকে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে রূপান্তরের প্ৰস্তাবে সিলমোহর মেরেছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। ৩,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট গঠনের প্ৰস্তাব গ্ৰহণ করা হয়েছে।
মধ্যাহ্ন ভোজনের রাঁধুনিদের বেতন সম্পর্কেও বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্ৰী। তিনি বলেন, আজকের ক্যাবিনেট মধ্যাহ্ন ভোজনের রাঁধুনিদের বেতন ২,০০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাবে অনুমোদন জানিয়েছে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে বৃদ্ধি হবে রাঁধুনিদের বেতন। এর জন্য ৮ কোটি টাকা খরচ হবে সরকারের।
এছাড়া রাভা হাসং উন্নয়ন পরিষদ গঠনেও অনুমোদন জানিয়েছে ক্যাবিনেট।
অসমের তৃতীয় লিঙ্গের মানুষজনকে বিশেষ সুবিধা প্ৰদান করার কথা বলে তাঁদের জন্য পরিচয়পত্র প্রদানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী জানান, অসম সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রান্সজেন্ডার বা তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে চিহ্নিতদের সামাজিক ও শিক্ষাগতভাবে পশ্চাদপদ শ্রেণি (সোশালি অ্যান্ড এডুক্যাশনালি ব্যাকওয়ার্ড ক্লাস সংক্ষেপে এসইবিসি)-র মর্যাদা দিয়েছে। আজ রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা বলেন, নালসা বনাম ভারত ইউনিয়ন মামলায় ২০১৪ সালে সুপ্রিম কোর্টের জারিকৃত নির্দেশ মেনে অসম সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মুখ্যমন্রীিে বলেন, ‘এটি অসমের জন্য একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে রাজ্যের ট্রান্সজেন্ডারদের এখন এসইবিসি বিভাগের অধীনে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। ট্রান্সজেন্ডারদের এখন এসইবিসি বিভাগের অধীনে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। এই পদক্ষেপে তাঁদের উন্নয়ন এবং জনকল্যাণের মূলধারায় একীভূত করতে সাহায্য করবে।’
আজকের মন্ত্রিসভা স্টেট মিনারেল এক্সপ্লরেশন ট্ৰাস্ট গঠনের অনুমোদন জানিয়েছে। রাজ্যে খনিজ পদাৰ্থের অন্বেষণ করবে এই ট্রাস্ট। পশ্চিম কাৰ্বি আংলং জেলায় নিৰ্মাণ করা হবে পাম্প স্টোরেজ প্ৰকল্প। চন্দ্ৰপুরে নবোদয় বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য রাজ্য সরকার দেবে জমি। এ জন্য কেন্দ্ৰকে ৪০ বিঘা জমি আবণ্টন করার সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিয়েছে ক্যাবিনেট।
অন্যদিকে এখন থেকে ‘আপোন ঘর’ এবং ‘আপোন বাহন’-এর সুবিধা পাবে তিনটা নিগম। রাষ্ট্ৰীয় স্বাস্থ্য অভিযান, সমগ্ৰ শিক্ষা অভিযান এবং বিদ্যুৎ বিভাগের কৰ্মচারীরা পাবেন ‘আপোন ঘর’ এবং ‘আপোন বাহন’-এর সুবিধা।
সাংবাদিক সম্মেলনে এপিএসসি সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় সম্পর্কে প্ৰতিক্ৰিয়া ব্যক্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্ৰী। তিনি বলেন, ‘আদলতের রায় হাতে আসার পর আমরা পদক্ষেপ নেব। খবরের কাগজে প্রকাশিত তথ্য সত্য হলে এই রায় বেদনাদায়ক। দোষী বলে সাব্যস্ত আধিকারিকদের এক শব্দে চাকরিতে পুনৰ্বহাল করার রায় বেদনাদায়ক। আদালত যদি এ ধরনের রায় দিয়ে থাকে তা-হলে আমরা সর্বোচ্চ আদালতে যাব। আমরা শেষ পৰ্যন্ত এই রায়ের বিরুদ্ধে লড়ব। তবে সর্বোচ্চ আদালতও একই রায় দিলে কিছু করতে পারব না আমরা। এছাড়া এই রায় সরকারের স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগ অভিযানকে কোনও না-কোনওভাবে বাধাগ্ৰস্ত করবে।’
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস
