নাগপুর, যদি কোনও কাজ হাতে নেন, তাহলে তা অবশ্যই সম্পূর্ণ করুন। এরপর তা ভুলে যান। আপনার কাজের মূল্যায়ন করা জনসাধারণ এবং মিডিয়ার কাজ।” এই অভিমত পোষণ করলেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গড়করি। লোকসভা নির্বাচনের দামামা বেজে ওঠার পর থেকেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়করির তাঁর নিজ জনপদ নাগপুরে সক্রিয়তা এখন দ্বিগুণ বেড়েছে। ভোটের ব্যস্ত সময়সূচী থেকে সময় বের করে ‘হিন্দুস্থান সমাচার’-এর সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজ কাজের ধরন তুলে ধরেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়করি।
কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে প্রবেশের প্রাক্কালে, গড়করি ২০০৯ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি ছিলেন। এর আগে, তিনি ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত মহারাষ্ট্রে পূর্ত দফতরের মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁর কাজ একটি মাইলফলক হিসাবে বিবেচিত হয়। কিন্তু গড়করি নিজের কাজের ব্যাপারে একটু ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। গডকরি বলেছেন, মানুষজন অর্থ, পদ এবং প্রতিপত্তির পিছনে দৌড়ে নিজেদের পুরো জীবন অতিবাহিত করেন। এই সব জিনিস ক্ষণস্থায়ী, একজন মানুষের স্বভাব ও কাজই তাঁর আসল পরিচয়। মন্ত্রী হিসেবে তিনি যখনই কোনও উন্নয়ন প্রকল্প শুরু করেন, কখনওই তা অসম্পূর্ণ রাখেন না। কাজ শেষ হওয়ার পর তা ভুলে যান। রাজনীতিবিদদের কখনোই নিজেদের সম্পর্কে কোনও মায়া করা উচিত নয়। নেতাদের কাজের মূল্যায়ন করার দায়িত্ব জনগণ ও গণমাধ্যমের।
সংবিধান দেশের আত্মা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গড়করি বলেছেন, তিনি সর্বদা রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করেছেন। বিজেপি তাঁকে সকলের প্রতি ন্যায়বিচার করতে শিখিয়েছে। উন্নয়নমূলক কাজে রাজনীতি করা উচিত নয়, তা না হলে তা বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সংবিধান পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে গড়করি বলেন, ডঃ আম্বেদকরের সংবিধান আমাদের সম্মান। সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠাই আমাদের জীবনের দৃঢ় বিশ্বাস। সংবিধান পরিবর্তনের প্রশ্নই আসে না। যারা দেশে জরুরি অবস্থা জারি করে সংবিধান ভঙ্গ করেছে, তাঁরা আমাদের সম্পর্কে মিথ্যা অপপ্রচার করেছে। বলা হচ্ছে, বিজেপি সংবিধান বাতিল করে, সংরক্ষণ বাতিল করবে। গড়করি বলেছেন, কংগ্রেস জনগণকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করতে পারে না। তাই তাঁরা সংরক্ষণ ও সংবিধানের নামে জনগণকে বিভ্রান্ত করার কাজ করে।
একজন ব্যক্তির পরিচয় কাজ দ্বারা নির্ধারিত হয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গড়করি বলেছেন, একজন ব্যক্তি তাঁর জাত, ধর্ম, ভাষা, লিঙ্গ এবং দলের জন্য মহান নয়, সে তাঁর কাজ এবং গুণের জন্য মহান। ভালো কাজের পেটেন্ট কারও নেই। তাই আমি সততার সঙ্গে ৫০ লক্ষ কোটি টাকার কাজ করতে পারি। আমার বিরুদ্ধে কেউ দুর্নীতির অভিযোগ করতে পারবে না। কেউ যদি বলে কাজ করতে হলে টাকা দিতে হবে, আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব। আমি এ জন্য প্রস্তুত। রাজনীতিতে মানুষের ভালোবাসা ও আস্থাই সবচেয়ে বড় সম্পদ।
অধিকারের সীমাবদ্ধতা গড়করি, যিনি সাধারণত ইতিবাচক, সরকারি আধিকারিকদের আচরণে কখনও কখনও ক্ষোভও প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছিল। তিনি বলেন, আধিকারিকদের সীমা নির্ধারণ করতে হবে। ১৯৮০ সালের বন সংরক্ষণ আইন আধিকারিকদের অতিরিক্ত ক্ষমতা দিয়েছে। উত্তরাখণ্ডের উদাহরণ দিয়ে গড়করি বলেছেন, বন ও পরিবেশ বিভাগ থেকে এনওসি না পাওয়ায় রাজ্যে ১০ হাজার কোটি টাকার কাজ আটকে আছে। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা দায়িত্ব পালন করলে, এতদিনে এই উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবে রূপ নিত। তাই পরিবেশের যত্ন নেওয়া খুবই জরুরি, তবে সেকেলে ও কঠোর আইনের পরিবর্তন প্রয়োজন।
নির্বাচনী বন্ডের শুভ উদ্দেশ্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়করি নির্বাচনী বন্ড নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন, যা দেশে এখন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, টাকা ছাড়া কোনও দল চলে না। কিছু দেশে, সরকার রাজনৈতিক দলগুলিকে অর্থায়ন করে। আমাদের দেশে এমন কোনও ব্যবস্থা নেই। তাই আমরা ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে ২০১৭ সালে নির্বাচনী বন্ড প্রকল্প নিয়ে এসেছি। নির্বাচনী বন্ড প্রবর্তনের পিছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক দলগুলি সরাসরি তহবিল গ্রহণ করবে, তবে নাম (দাতাদের) প্রকাশ করা হবে না। এর কারণ ছিল, ক্ষমতায় থাকা দল পরিবর্তন হলে সমস্যা তৈরি হবে। গড়করি বলেছেন, আমরা স্বচ্ছতা আনতে নির্বাচনী বন্ডের এই ব্যবস্থা নিয়ে এসেছি। আমাদের উদ্দেশ্য ভালো ছিল। সুপ্রিম কোর্ট যদি এতে কোনও ফাঁক খুঁজে পায় এবং আমাদের তা সংশোধন করতে বলে, তাহলে সব পক্ষ একসঙ্গে বসে সর্বসম্মতভাবে বিবেচনা করবে।
প্রসঙ্গত, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের সাধারণ কর্মী হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করা নীতিন গড়করিকে নাগপুরের সুখ-দুঃখের সঙ্গী বলা হয়। গড়করি নাগপুরকে নিজের বাড়ি বলে মনে করেন, সংসদীয় এলাকা নয়। ফলস্বরূপ, করোনার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং মহামারীর সময়ে, নিজ পরিবারের জন্য একজন সদস্য যা করেন তা করেছেন গড়করি। এই কারণে জনসাধারণও তাঁকে আপন মনে করেন। ফলে নিজের জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বলেই মনে হচ্ছে গড়করিকে।
