শিলিগুড়ি: শনিবার রাজ্যের শাসক তৃণমূলকে দুর্বৃত্ত দল বলে মঞ্চে আক্রমণ প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, এই দুর্বৃত্তদের দলের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী সবাই জেলে। একটা ভোটও দেবেন না তৃণমূলকে।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শিলিগুড়ির সভাতেই রাজনীতির মঞ্চে দাঁড়িয়ে অভিষেক-ভাষণ দেওয়ায় বিজেপি তাঁকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখছে তা স্পষ্ট হয়ে যায়। আসন্ন লোকসভা ভোটের প্রচারে তৃণমূল বিরোধী হাতিয়ার হিসেবে অভিজিৎবাবুকে দিয়ে শান দিতে চাইছে বিজেপি। এদিনের সভায় তাঁকে হাজির করানোর ব্যাপারে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অনুমোদন রয়েছে বলেও দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
এদিন অভিজিৎবাবু ভাষণের শুরু থেকেই চাঁচাছোলা আক্রমণ শুরু করেন। তিনি বলেন, তৃণমূল দুর্বৃত্তদের দল। এদের একটি ভোটও দেবেন না। চাকরিপ্রার্থী যারা অনেক বেশি নম্বর পেয়েছে তাদের চাকরি দেওয়া হয়নি। তাহলে কারা চাকরি পেয়েছেন? যাঁরা টাকা দিয়েছেন তাঁরা। এই যে দুর্বত্তরা তারা নিজেদের পকেটে টাকা ঢুকিয়েছে।
তিনি ভাষণে বলেন, “তৃণমূল ভিতর থেকে ভাঙতে শুরু করেছে বলে জানতে পারছি। আমাদের তৃণমূলকে সম্পূর্ণ রূপে ভেঙে দিতে হবে। যাতে ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে আর ওরা দাঁড়াতে না পারে।”
রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থাকে শেষ করে ছেড়েছে। এই কথা বলে তিনি খাদ্য দুর্নীতির প্রসঙ্গও টেনে আনেন। বলেন, খাদ্য দুর্নীতিতে খাদ্যমন্ত্রী জেলে আছেন। শিক্ষামন্ত্রী জেলে আছেন। বাসস্থানের দুর্নীতির কথা তো আপনারা জানেন। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার দুর্নীতিতে কাউকে যদি ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়ে থাকে, তার মধ্যে ২৫ হাজার টাকা এদের পকেটে গেছে।
অভিজিৎবাবু উত্তরবঙ্গের জনতার আদালতে আর্জি জানিয়ে বলেন, সামনে একটা ভোট আসছে, সেই ভোটে এই দুর্বৃত্তদের একটা শিক্ষা দিতে হবে। সেই শিক্ষা হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাদের উৎখাত করতে হবে। ক্ষমতায় আসীন এই দুর্বৃত্ত দলকে বুঝিয়ে দিতে হবে, তোমাদের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। রাজ্যের ৪২টি লোকসভা আসনে একটিও তৃণমূলকে না দেওয়ার ডাক দেন অভিজিৎবাবু।
তৃণমূলকে ভোট না দেওয়ার শপথ নিতে বলেন প্রাক্তন বিচারপতি। সন্দেশখালির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, তৃণমূলেও ভাঙন ধরছে। কারণ এই পরিস্থিতিতে এই দলে থাকা যায় না। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে গদিচ্যুত করার জন্য লোকসভা ভোট থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার পদক্ষেপ করতে আহ্বান জানান অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।
