অশোক সেনগুপ্ত
কলকাতা, ১৭ জানুয়ারি (হি.স. ): যুগান্তরের সাথে সাথে বদলে যাচ্ছে পোষাকের নকশা বা পরার ধরণ। কিন্তু শাড়ি কি ক্রমেই তার মর্যাদা হারাচ্ছে? নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন উস্কে দিলেন সেই বিতর্ক। সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে সরব হয়েছেন নেটনাগরিকদের একাংশ।
তসলিমা লিখেছেন, “নিউজে দেখলাম আমীর খানের মেয়ের বিয়েতে সেজেগুজে বলিউডের নায়ক নায়িকারা এসেছেন। নায়কদের পরণে পুরোনো কায়দার পোশাক। কিন্তু দু’একজন নায়িকার পরণে নতুন ধরণের শাড়ি। ডিজাইনাররা নতুন ধরণের শাড়ি বানাচ্ছেন, এবং সেসব শাড়ি পরার ঢংও নতুন। শাড়ির আঁচল ব্লাউজের ওপর দিয়ে নয়, বরং বাহুর এক পাশ দিয়ে যাচ্ছে। দেখলে পোশাকটাকে শাড়ি বলে মনে হয় না। শাড়ি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে বলে কি শাড়িকে বাঁচানোর কায়দা এটা? আমি জানি না পরিধানে নতুনত্ব এনে শাড়িকে বাঁচানো যাবে কি না। হয়তো নতুন প্রজন্মের মেয়েরা সেক্সি লুক আসবে ভেবে এভাবে পরবে শাড়ি। এভাবে পরুক, বা প্রাচীন গ্রীকদের মতো পরুক, ব্লাউজ বাদ দিয়ে পরুক, পেটিকোট ছাড়া পরুক, তবু পরুক। এত চমৎকার একটা পোশাক শীঘ্র বিলুপ্ত না হোক। শাড়িটা আরও দীর্ঘকাল বেঁচে থাকুক।”
পোস্ট করার ১০ ঘন্টা পর বুধবার সকাল সাড়ে ন’টায় তসলিমার এই পোস্টে লাইক, মন্তব্য ও শেয়ারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ৩০০, ১৮৪ ও ১৭। বেলা সওয়া তিনটায় এই তিন সংখ্যা হয়েছে যথাক্রমে ৩ হাজার, ২২৯, ১৯। অমিত চক্রবর্তী লিখেছেন, “যথার্থই বলেছেন আপনি।” নন্দিতা তিতলি লিখেছেন, “খুব ভালো লিখেছেন দিদি।” এমন সুন্দর পোশাক প্রায় বিলুপ্তির পথেই। আমরা নিজেরাই দায়ী এর জন্য। বিশেষ আচার-অনুষ্ঠান ছাড়া শাড়ি প্রায় পরাই হয়না। জড়িয়ে থাকুক বাঙালি নারীর সাথে শাড়ি।” রুজাইফা খান লিখেছেন, “আপনার শাড়িগুলোও খুব সুন্দর। আমি মুগ্ধ হয়ে দেখি।”
মালিহা পারভিন লিখেছেন, “আপা, আমি শাড়ি ছাড়া কোনো কাজে কনফিডেন্স পাই না।
মেঘা ঘোষ লিখেছেন, “শাড়ি বাঁচানোর এত আধুনিক প্রয়াস সত্যি বিস্ময়কর!”
বিনয় মণ্ডল লিখেছেন, “ধন্যবাদ গঠনমূলক আলোচনার জন্য।” আরাবিয়া তানজিল নিশি লিখেছেন, “শাড়ি কখনো যেনো বিলুপ্ত না হয়।
শাড়ি হলো সবচেয়ে সুন্দর একটি পোশাক।”
সঞ্চারি দে লিখেছেন, “সুন্দর করে বলেছেন কথাগুলো।” শ্রীকান্ত প্রামাণিক লিখেছেন, “একজন তাঁতি (শাড়ি প্রস্তুতকারী) হিসেবে বলছি আপনার কথা খুব ভালো লাগল, যাই করুন এই শিল্পটাকে বাঁচান। এই শিল্পটার অবস্থা একদম ভালো নয়। বর্তমান সময়ে শুনেছেন কোন কাজের মজুরি কমে যায়। হ্যাঁ এটাই হচ্ছে আমাদের তাঁতিদের সাথে। তাই পরিস্থিতি এমনই দিকে যাচ্ছে যে ভবিষ্যতে হয়তো ইচ্ছে থাকলেও আর কেউ শাড়ি পড়তে পারবেন না। কারণ শিল্পীরা যদি না থাকে শিল্পটাও আর থাকবে না।”
শিল্পী দাস ঘোষ লিখেছেন, “আমার ভালো লাগে শাড়ি পরতে তাই যে যাই বলুক যাই পরুক আমি তো শাড়ি পরি আর আপনার শাড়িগুলো খুবই সুন্দর আর পরলে ভালো লাগে। শাড়ি নিয়ে অনেক কথা থাকে যেগুলো বলা হয়না আমার বাবা তাঁতী ছিল কত শাড়ি কত রকমের তাই কোনো জানিনা আমার শাড়ি কিনতে আর পরতে অন্যরকম অনুভুতি হয় তাই শাড়ি বেচেঁ থাক সবসময় সব নারীর মধ্যে।”
সৌমিতা মুখার্জি লিখেছেন, “এই জেনারেশনের অনেক মেয়েই কিন্তু শাড়ি পরতে ভালোবাসে… মনে হয় না, এত তাড়াতাড়ি বিলুপ্ত হবে।” পম্পা বর্মণ লিখেছেন, “শাড়ি খুবই পছন্দের পোশাক।”
সুনয়না ভৌমিক লিখেছেন, “হবে না বিলুপ্ত। শাড়ি থাকবে, থাকবেই।” মহুয়া বসু সেন লিখেছেন, “শাড়ি ছিল, আছে, থাকবে”।
রাজশ্রী বড়ুয়া লিখেছেন, “শাড়ির মতো এত সুন্দর একটা পোশাক আর আছে? শাড়িতে বাঙালী নারী সম্পূর্ণ আলাদা। আমার যত মুগ্ধতা শাড়িতে।” রুমা দাস লিখেছেন, “শাড়ি প্রেমিক হয়ে উঠুক সকল নারী।” তানভিয়া আজিম লিখেছেন, “শাড়ির মতো সুন্দর পোশাক হয় না।” সুস্মিতা কর্মকার লিখেছেন, “বিলুপ্তির প্রশ্নই নেই! শাড়ির ব্যাবসা রমরমিয়ে চলছে। হাজার হাজার লাখ লাখ টাকা দামের শাড়ি সবাই হুড়মুড়িয়ে কিনছে। পরি হয়ত কম কিন্তু কিনি অনেক!”
আমিনা রহমান লিখেছেন, “শাড়ি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে— এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। শাড়ি একজন নারীকে অনন্য করে তোলে। আর সেই শাড়িকে নিয়ে আধুনিকতায় একি হাল সেটা বোধগম্য নয়। আপনি আরও লেখেন যাতে শাড়ি তার নিজস্ব জায়গায় থাকে। আমি একজন ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে সেটাই কামনা করি।”
শান্তা রায় লিখেছেন, “কী যে বলেন, শাড়ি নাকি বিলুপ্ত হবে! শাড়ির জন্য পাগল হয়ে যাই আমরা। মানব জাতি যত দিন থাকবে শাড়িও তত দিন বাঁচবে।”
এলা দাস লিখেছেন, “শাড়ি শুধু একটা পোশাক নয়।শাড়ি সৌন্দর্য এর প্রতীক। শাড়ি একটি ভালবাসা। প্রতিটি বাঙালি নারীকে শাড়িতে অপুর্ব লাগে।” মন্টি সরকার লিখেছেন, “বাঙালি মেয়েরা শাড়ী কে বিলুপ্ত হতে দেবে না।” চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য লিখেছেন, “শাড়ি তো বেঁচে থাকবেই। এত সুন্দর পোশাক। কিন্তু অপ্রাসঙ্গিক একটা কথা বলছি, বাঙালি পুরুষের ধুতি পাঞ্জাবি উঠে গেলো। কি সুন্দর যে ছেলেদের লাগে।”
অনিন্দিতা বসু বিশ্বাস লিখেছেন, “শাড়ি কোনদিনও বিলুপ্ত হবে না। আধুনিক প্রজন্ম শাড়িকে বড্ড ভালোবাসে, হয়তো কাজে সুবিধা জন্য অন্য পোশাক পরে কিন্তু সব সময় শাড়ি পড়ার ইচ্ছা মনের মধ্যে থাকে। আর আমরা তো শাড়ি পাগল। দক্ষিণ ভারতীয় মেয়েদের দেখবেন শাড়ির স্থান কোথায়?”
সোমা দত্ত লিখেছেন, “আমি সবসময় একটা কথা বলি, শাড়ি আর গয়না পছন্দ নয় এমন কথা যে মেয়ে বলবে সে ডাহা মিথ্যা বলবে, অন্য অনেক রকমের পোশাক আশাক পরিধান করতে পারে কিন্তু ভারতীয় নারীদের শাড়ি র ওপর টান থাকবেই,পরুক না পরুক কিনবেই যেমন আমি, জোর গলায় বলি শাড়ি গয়নার ওপর আমার অনেক মোহ মায়া, ওই মোহমায়া আমি ত্যাগ করতে পারব না একেবারে।”
দীপাঞ্জন দত্ত লিখেছেন, “ভারতে শাড়ি বিলুপ্ত হওয়ার কোনও সম্ভাবনাই নেই। যেকোন বিয়ে ইত্যাদি উৎসবে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে, শাড়ি ছাড়া অন্য ড্রেস ভাবাই যায় না। শাড়ির মতন গর্জাস লুক আর কোন পোষাক দিতে পারে?
পিওর সিল্ক, শিফন, জর্জেট, পাটোলা, বাঁধনি, কাঞ্জিভরম, বালুচরী, সম্বলপুরি, ইত্যাদি কত রকমের শাড়ি আছে। পরার স্টাইলেও কত ভ্যারাইটিজ। শাড়ি হারিয়ে যাওয়ার কোন সম্ভাবনা অন্তত ভারতে নেই। বাংলাদেশের ব্যাপার আলাদা, কয়েক মাস আগে ঢাকাতে গিয়ে অবাক হয়েছিলাম দেখে যে, মহিলারা কেউ শাড়ি পরছেনই না। এমনকি বিয়ে বাড়িতেও না।”
সবাই যে সহমত হয়েছেন, তা নয়! মহম্মদ জাহাঙ্গির আলম লিখেছেন, “আমাদের এলাকায় আগে অনেক মহিলাদের দেখতাম ব্লাউজ ছাড়াই শাড়ি পরতে। মাঠে ঘাটে যেখানেই যেতো ওই ব্লাউজ ছাড়াই। এখনকার মেয়েরা বোরখা হিজাব পরে। শাড়ি পরতেই চায় না। অথচ বোরখা হিজার বাঙালির কালচার সংস্কৃতির সাথে বড্ড বেমামান। সৌদি আরব বাংলাদেশে থেকে হাজার হাজার মহিলা গৃহকর্মী তাদের দেশে নিয়ে যায়। ওই সব মহিলারা সবাই সৌদিতে বোরখা হিজাব পরিধান করেই যায়। কিন্তু সমস্যা হলো অধিকাংশ ওই সব বোরখা হিজাব পরা মহিলারা বাংলাদেশ ফেরত আসার সময় প্রে গনেন্ট হয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসে। বোরখা হিজাব তাদেরকে রক্ষা করতে পারেনা নবীর দেশের পুরুষদের ধর্ষনের হাত থেকে।”
রুদ্র রহমান লিখেছেন, “পোশাক পরিধান করা এটা তাদের ব্যক্তিগত অধিকার।” রেজাউল করিম রেজা লিখেছেন, “পোশাক যদি মানুষের কর্ম পরিবেশ সহায়ক এবং ভৌগোলিক অবস্থান জলবায়ুর উপর নির্ধারিত হয় তবে বিলুপ্তিকে মেনে নিতে হয়।” মহম্মদ সাহাবুদ্দিন লিখেছেন, “শাড়ি নিয়ে এত লম্বা লম্বা কথা কেন? যে যার মতে পড়বে তাতে কি? তুমি ভাল থাক। তোমার বাবুদের ধর্মের কাহিনি নিয়ে ভালো থাক্। ধন্যবাদ।”
অজিত পাটোয়ারি লিখেছেন, “যুগের সাথে তাল মিলিয়ে পরিবর্তন আসুক সেটা ভাষা বা পোশাক আশক বা যা কিছুই। কিন্তু শাড়িতে একটু পরিবর্তন আসলে কেনো প্রশ্ন দিদিমণি?”
ফারজাহান রহমান শাওন লিখেছেন, “প্রাচীন ভারতে এরকম এবং আর বহু রকম ভাবেই শাড়ী পরত মেয়েরা। এখন যেভাবে আমরা শাড়ী পরি সেটা যত সভ্য হয়েছি আমরা তত বদলে বদলে এই চেহারা ধারণ করেছে। ভারতের নানান রাজ্যেই তো শাড়ী পরার ধরণে ভিন্নতা আছে।”
হিন্দুস্থান সমাচার/অশোক
