গুয়াহাটি, ১ জানুয়ারি (হি.স.) : ‘মিশন বসুন্ধরা’র উল্লেখযোগ্য সুবিধা পেয়েছেন তফশিলি উপজাতি (এসটি), তফশিলি জনজাতি (এসসি) এবং অন্যান্য পশ্চাদপদ শ্রেণির মানুষজন, বলেছেন মুখ্যমন্ত্ৰী হিমন্তবিশ্ব শৰ্মা। বিগত বছরের মতো আজও ইংরেজি নববর্ষ ২০২৪ সালের প্রথম দিন রাজ্য সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের তথ্য আজ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা। আজ ইংরেজি নববর্ষ ২০২৩ সালের প্রথম দিন জনতা ভবনে লোকসেবা ভবন চত্বরে তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং সম্পাদকদের সঙ্গে ‘নতুন দিনর বার্তালাপ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বিগতদিনে তার সরকারের কার্যকলাপ এবং আগামীদিনের পদক্ষেপ সম্পর্কে তথ্য পেশ করছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ড. শর্মা।
অসমে মুখ্যমন্ত্ৰী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা প্ৰচলিত ভূমি সংক্রান্ত প্রকল্প ‘মিশন বসুন্ধরা ২.০’ রাজ্যে বসবাসকারী আদিবাসীদের ভূমি অধিকারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। মিশনটি ভূমির মালিক বা সুবিধাভোগীদের জমির পাট্টা (ভূমির অধিকার) প্রদানের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে, যেখানে তিন প্রজন্ম ধরে জমিতে বসবাসকারী আদিবাসীদের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী ড. শৰ্মা আজ অরক্ষিত জনগোষ্ঠীদের শোষণ ও আর্থ-সামাজিক কষ্ট দূর করতে জমির মালিকানার জন্য আইনি নথিপত্রের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন আজ। তিনি জোরের সঙ্গে বলেন, ‘মিশন বসুন্ধরা’ বাস্তবায়নে কোনও মধ্যসত্বভোগীর সহায়তা নিলে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা উপকৃত হবেন না। মিশনের লক্ষ্য হলো ভূমি রেকর্ড আপডেট করার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করা, নাগরিকদের দাবি অনুযায়ী পরিষেবাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা এবং ভূমি ব্যবস্থাপনা ইকোসিস্টেমের মধ্যে ব্যবস্থাদি সহজ করার একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা।
তিনি জানান, মিশন বসুন্ধরা ২.০-এর সূচনাকে রাজ্যের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, এটি তার পূর্বসূরি মিশন বসুন্ধরা ১-এর সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এর মাধ্যমে ৮ লক্ষেরও বেশি আবেদনকারীর মধ্যে ইতিমধ্যে ৬ লক্ষের বেশি লোক স্থায়ী ভূমি পাট্টা পেয়েছেন।
মিশনটি সামগ্ৰিকভাবে আদিবাসীদের অন্তৰ্ভুক্ত করে যাঁরা তিন প্রজন্ম ধরে জমিতে বসবাস করার মানদণ্ড পূরণ করেন। মিশনের প্রধান লক্ষ্য, আদিবাসীদের জন্য ভূমির অধিকার সুরক্ষিত করা এবং অসমে ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়াগুলিকে সুগম করা।
অসমে ভূমি ব্যবস্থাপনা পরিষেবাগুলিকে আরও সমর্থন করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী ন্যাশনাল জেনেরিক ডকুমেন্টস রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম (এনজিডিআরএস) এবং ই-স্ট্যাম্পিং সুবিধাও চালু করেছেন বলে জানান। এতে ভূমি অধিকার এবং ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক সম্পর্কিত আটটি ডিজিটাল পরিষেবার একটি স্যুট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যেমন সরকারি খাস জমির বন্দোবস্ত, দখলদার ভাড়াটেদের মালিকানা অধিকার প্রদান, আদিবাসী সম্প্রদায়ের বংশগত জমির বন্দোবস্ত ইত্যাদি।
মিশনটি পরিবেশগত কারণে চর অঞ্চলগুলিকে বাদ দিয়ে সীমাবদ্ধতার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেয়। এতে নিশ্চিত করে যে শুধুমাত্র প্রকৃত আদিবাসীরা এই প্রকল্প থেকে উপকৃত হচ্ছেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ / অরবিন্দ
