দুর্গাপুর, ৩০ নভেম্বর (হি. স.) : করোনা আবহে লকডাউনের পর অনটনের সংসারে পড়াশোনা ছেড়ে ব্যাবসা শুরু করেছিল। গ্রামেই ছোটো গুমটিতে দোকান করে ভালোই রোজগার করছিল। আচমকায় ধরা পড়ে শরীর মারণ রোগ। আর তার চিকিৎসা করাতে গিয়ে সহায় সম্বল বন্ধক রেখে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে গোটা পরিবার। ছেলেকে বাঁচাতে করুন আর্তি কাঁকসার বনকাটির পাল পরিবারের।
সুপ্রিয় পাল (২০), কাঁকসার বনকাটির বাসিন্দা।বাবা সুকুমার পাল পেশায় দিনমজুর। নুন আনতে পান্তা ফুরোয় সংসারের অবস্থা। কোনভাবে সংসার চলে। করোনা আবহের চরম অনটনে পড়েন সুকুমারবাবু। সংসারের হাল ধরতে মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে ব্যাবসা শুরু করে সুপ্রিয়। উচ্চমাধ্যমিক পাশের পর গ্রামেই ছোটো গুমটিতে ব্যাবসা শুরু করে। বছর দুয়েকে রোজগার ভালই শুরু হয়। বছরখানেক আগে সুপ্রিয়র গলায় ক্যান্সার ধরা পড়ে। পরিবারের একমাত্র ছেলে মারণ রোগে আক্রান্ত হওয়ায় দুঃশ্চিন্তায় পড়েন সুকুমারবাবু। ছেলেকে বাঁচাতে মরিয়া সুকুমার বাবু মুম্বাইয়ে টাটা মেমোরিয়ালে ছেলের চিকিৎসা শুরু করেন। সেখানে যক্ষা রোগও ধরা পড়ে। প্রায় ছ’মাস সেখানে থাকার পর সম্প্রতি বাড়িতে ফিরে এসেছেন। বেশ কয়েকটি কেমো দেওয়া হয়েছে। আর ওই চিকিৎসার খরচ চালাতে স্বর্বস্ব খুইয়েছে সুকুমারবাবু। মন ভারক্রান্ত সুকুমারবাবু বলেন, ছেলের ব্যাবসা লাটে উঠেছে। বিঘা তিনেক জমি ছিল। সেটা বন্ধক রেখে চিকিৎসার খরচ চালানো হয়। বর্তমানে নিঃস্ব পড়েছি। অর্থাভাবে চিকিৎসার খরচ চালাতে পারবো না। চরম দুঃশ্চিন্তায় রয়েছি। তাই সরকারের কাছে করুন আর্তি, ছেলের চিকিৎসার যেন ব্যাবস্থা করে দেয়। কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ভবানীপ্রসাদ ভট্টাচার্য জানান, ওই পরিবারটি এখনও আবেদন করেনি। অবশ্য পাশে থাকবে সরকার।
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব
