বারাণসী, ১৭ নভেম্বর (হি.স.) : জ্ঞানবাপীতে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষার কাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি । জার জন্য বারাণসী আদালতে আরও ১৫ দিন সময় চাইল আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া। শনিবার রয়েছে আদালতের পরবর্তী শুনানি।
গত ২১ জুলাই বারাণসীর জেলা আদালত জানিয়ে দেয়, মসজিদের ওজুখানায় থাকা ‘শিবলিঙ্গ’ বাদে বাকি অঞ্চলের ‘বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা’ করবে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া। সেই নির্দেশ মেনে রায়দানের মাত্র দু’দিন পরেই শুরু হয় সমীক্ষার কাজ। জ্ঞানবাপীতে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা চালালে মসজিদ ভেঙে পড়তে পারে এই দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল কর্তৃপক্ষ। তবে সেই দাবি খারিজ হয়ে যায় এলাহাবাদ হাই কোর্টে। তবে আদালত জানিয়ে দেয়, ওখানে উপস্থিত কোনও কিছুকেই সরানো যাবে না জায়গা থেকে। মসজিদ কমিটি সুপ্রিম কোর্টে গেলেও হাই কোর্টের রায়ই বজায় রাখে শীর্ষ আদালত। গত সোমবার, ২ নভেম্বর ওই রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা ছিল। পরে তা জমা দেওয়ার মেয়াদ বাড়িয়ে ১৩ নভেম্বর করা হয়েছিল। কিন্তু শুক্রবার এএসআইয়ের তরফে জানানো হল, তাদের আরও ১৫ দিন সময় দেওয়া হোক।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের আগস্টে পাঁচ হিন্দু মহিলা জ্ঞানবাপীর ‘মা শৃঙ্গার গৌরী’ (ওজুখানা ও তহখানা) এবং মসজিদের অন্দরের পশ্চিমের দেওয়ালে দেবদেবীর মূর্তির অস্তিত্বের দাবি করে তা পূজার্চনার অনুমতি চেয়ে যে মামলা দায়ের করেছিলেন, তারই প্রেক্ষিতে মসজিদের অন্দরের ভিডিয়ো সমীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বারাণসীর নিম্ন আদালতের বিচারক রবিকুমার দিবাকর। এর পরেই হিন্দু পক্ষের তরফে প্রাপ্ত নমুনাগুলির কার্বন ডেটিং পরীক্ষার আবেদন জানানো হয়েছিল ২০২১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর। সেই সমীক্ষা এবং ভিডিয়োগ্রাফির কাজ শেষ হওয়ার পরে ২০২২ সালের ২০ মে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মামলার শুনানির দায়িত্ব পায় বারাণসী জেলা আদালত। পর্যবেক্ষক দলের ভিডিয়োগ্রাফির রিপোর্টে মসজিদের ওজুখানার জলাধারে শিবলিঙ্গের মতো আকৃতির যে কাঠামোর খোঁজ মিলেছে, সেটি আসলে ফোয়ারা বলে মুসলিম পক্ষ দাবি করে। অন্য দিকে, হিন্দুপক্ষের তরফে প্রাপ্ত নমুনাগুলির কার্বন ডেটিং পরীক্ষার আবেদন জানানো হয়েছিল।
হিন্দুস্থান সমাচার / কাকলি
