কলকাতা, ৯ নভেম্বর (হি. স.): পশ্চিমী ঝঞ্ঝা কেটে যেতেই ফের রাজ্যে হু হু করে ঢুকছে উত্তুরে হাওয়া। আর যার ফলে সোমবার থেকেই আবহাওয়ার বদল এসেছে । সকাল এবং রাতের দিকে ঠান্ডার শিরশিরানি অনুভূত হচ্ছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, আপাতত এই পরিস্থিতি বজায় থাকবে। কালীপুজোতেও রাজ্যজুড়ে পুরোদমে থাকবে ঠান্ডার আমেজ। পরিষ্কার আকাশ, ঝকঝকে রদ, আর বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই—সবমিলিয়ে শীতের শুরু বলাই যায়।
হেমন্তের শুরুতেই শীত পড়তে পারে দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায়। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূমের মতো জেলাগুলিতে রাতের দিকে তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রির ঘরে নেমে যেতে পারে। কলকাতা, হাওড়া ও সংলগ্ন এলাকায় তাপমাত্রার পারদ ঘোরাফেরা করবে ২০-২১ ডিগ্রির মধ্যে। মূলত পশ্চিমের জেলাগুলিতেই সবার আগে জাঁকিয়ে শীত পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভোরের দিকে পারদ কমের দিকেই থাকবে। তারপর বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়বে।
তবে উত্তরবঙ্গে আগামী কয়েকদিন উত্তুরে হাওয়ার প্রভাব বেশ ভালমতই থাকবে। ইতিমধ্যেই সেখানে শীতের আমেজ অনেকটাই বেড়েছে। তবে এইমুহূর্তে সেখানে আপাতত বৃষ্টির কোন সম্ভাবনা নেই। দার্জিলিং, কালিম্পংয়ের মতো পাহাড়ি জেলাগুলিতে আর কয়েকদিনের মধ্যে জাঁকিয়ে ঠান্ডা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অন্যান্য জেলাগুলির সঙ্গে তাপমাত্রার বিশেষ হেরফের হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। কালীপুজো কাটার পরেই সেখানে শীতের আমেজ আরও বেড়ে যাবে।
কলকাতায় আপাতত পরিষ্কার, মেঘমুক্ত আকাশ । আগামী ৫-৭ দিন আবহাওয়া একইরকম থাকবে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস । এর মধ্যেই উত্তর ও উত্তর পশ্চিমের হাওয়া বইতে শুরু করেছে তিলোত্তমায়। ভোর ও সন্ধ্যায় খুব হালকা শীতের আমেজ কলকাতা শহরে। চলতি সপ্তাহে ২০-২২ ডিগ্রির ঘরে থাকবে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। আজ সকালে মহানগরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা কিনা স্বাভাবিক। গত কাল বিকেলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি স্বাভাবিকের চেয়ে ২ ডিগ্রি কম। আজ সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ কলকাতার আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৭৮ শতাংশ। গত কাল থেকে আজ পর্যন্ত কোনও বৃষ্টি হয়নি।
কলকাতায় রাজ্যে যখন হালকা শীতের আমেজে মনোরম আবহাওয়া, তখন একের পর এক পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে তুষারপাতের সম্ভাবনা জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখে। আজ ও কাল, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের মধ্যে ওই এলাকায় বৃষ্টি এবং তুষারপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে পূর্বাভাস।
হিন্দুস্থান সমাচার /
