কলকাতা, ২৮ অক্টোবর (হি.স.): ১৯ নভেম্বর ফাইনাল। হাতে ৩ সপ্তাহেরও বেশি সময়। কিন্তু এবারের প্রতিযোগিতার ঘোষণায় কলকাতার যেন আর তর সইছে না। সেরকমই ছবি দেখা গেল ময়দান চত্বরে।
কলকাতা এখনই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে, বিশ্বকাপ এ বার রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলিদের। ভাবছেন আবেগের বিস্ফোরণ? হতে পারে। ভাবছেন অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস? তাও হতে পারে। সে যে কারণই হোক, শনিবাসরীয় কলকাতা জানিয়ে দিল, বিশ্বকাপ এ বার ভারতের। ১৯ নভেম্বর আমেদাবাদ শুধু সিলমোহর দেবে। ভাবছেন আজগুবি কথাবার্তা লেখার মানে কী? খোলসা করে বলা যাক।
হঠাৎ চোখে পড়ল ভারতীয় জার্সিতে থাকা বিসিসিআইয়ে লোগোর দিকে। লোগোর ঠিক ওপরে ৩ তারা। ভালমত দেখলেও হ্যাঁ, সঠিক। ৩টে তারাই তো। ওডিআই বিশ্বকাপের জন্য বিসিসিআই যে নতুন জার্সি তৈরি করেছে বিরাট-রোহিতদের জন্য, সেখানে তো ২ তারা।
কারণ সহজ, ১৯৮৩ ও ২০১১ সালে দু’বার একদিনের ক্রিকেটে বিশ্বসেরা হয়েছে টিম ইন্ডিয়া। তাই জার্সির লোগোর ওপরে ২ তারা। ফুটবল হোক বা ক্রিকেট- জার্সিতে বিশ্বজয়ের সংখ্যা অনুযায়ী তারা থাকে জার্সিতে। যেমন ফুটবলে। ব্রাজিলের জার্সিতে ৫ তারা। আর্জেন্টিনার জার্সিতে ৩ তারা। জার্মানির জার্সিতে ৪টে তারা। ক্রিকেটেও তেমন। অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে ৫ তারা। ভারতের জার্সিতে ২ তারা। পাকিস্তানের ১।
তা হলে কলকাতায় যে জার্সি বিক্রি হচ্ছে সেখানে ৩ তারা এল কী করে? খোঁজ নিয়ে জানা গেল, এই জার্সি তৈরি হয় বিশরপাড়া অঞ্চলে। মধ্যগ্রামের সন্নিকটে। সেখান থেকেই বিক্রেতা এসেছেন জার্সি পসরা নিয়ে। তবে কী তাঁরা ভেবে নিয়েছেন বিশ্বকাপ এবার ভারতের?
হাল্কা হাসি বিক্রেতার। হাসিটা যেন সম্মতির। নাকি বিরাটদের নিয়ে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের? কে জানে। তবে সেই জার্সিও বিক্রি হচ্ছে দেদার। রোহিতদের বুকে ৩ তারা বসার আগেই কলকাতার দর্শকদের পরনে উঠল ৩ তারার জার্সি। কলকাতা যেন বিশ্বকাপ জিতে নিয়েছে ৩ সপ্তাহ আগেই।
ঘরোয়া আড্ডায়, কেউ কোনও ভবিষ্যদ্বাণী করলেই তাঁকে ব্যাঙ্গাত্মক সুরে বলা হয়, ‘যা গিয়ে শহীদ মিনারের তলায় টিয়া পাখি নিয়ে বস’। আর শহীদ মিনারের থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরেই রোহিতদের ভবিষ্যদ্বাণী করে দিলেন কলকাতার জার্সি বিক্রেতা। ফাইনালের ৩ সপ্তাহ আগেই!
হিন্দুস্থান সমাচার/ অশোক
